বুধবার, ২৯ মে ২০২৪, ১১:৩৫ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
চেতনানাশক জুস খাইয়ে চালককে হত্যা, অটোরিকশা ছিনতাইচক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার লালমাইয়ের সুমিষ্ট পাহাড়ি কাঁঠালের সাতকাহন সাদিক মামুনের কবিতা ‘তোমাতেই খুঁজে পাই’ নগরীর নূর আইডিয়াল স্কুলের টিনের চালে নির্মাণাধীন ভবনের পিলার পড়ে ছাত্র নিহত পুকুর পাড়ে বিষের বোতল! ভেসে ওঠেছে বিভিন্ন প্রজাতের মাছ চান্দিনায় আধুনিক মাছ চাষ পদ্ধতি উন্নতিকরণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত কুবি শিক্ষক সমিতির ‘না’ বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিদায়-বরণ অনুষ্ঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে অনাস্থা কুবি শিক্ষক সমিতির ব্রাহ্মণপাড়া পুলিশের অভিযানে ৭৫ বস্তা ভারতীয় চিনি জব্দ, দুইজন গ্রেফতার কুমিল্লা জুড়ে কবি নজরুলের সঙ্গীত ও সাহিত্যের বর্ণিল অধ্যায় আটক ৩৯ কিশোরকে মুচলেকায় ছাড়িয়ে নিল অভিভাবকরা দেবিদ্বারে চেয়ারম্যান প্রার্থী সাহিদার প্রচারণায় সাবেক এমপি রাজী ফখরুল কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে ব্যবসায়ীর মৃত্যু কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে সাংবাদিকদের সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতবিনিময় শিক্ষার্থীর সৃজনশীল মেধা বিকাশে শিক্ষকের ভূমিকা ‘কুমিল্লা আরবান টিউশনি মিড়িয়া’ হাতিয়ে নিয়েছে কুবি শিক্ষার্থীদের অর্থ লক্ষাধিক টাকা কুমিল্লার মুরাদনগর বিএনপির প্রবীণ নেতা মতি মাষ্টারের ইন্তেকাল  কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদণ্ড বিজয়নগরে যৌনকর্মী হত্যার দায়ে দুই জন গ্রেফতার

করোনায় কর্মহীন মেহেরপুর পর্যটনশিল্পের হাজারো মানুষ

রাজু আহমেদ, জেলা প্রতিনিধি মেহেরপুর
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৮ জুলাই, ২০২০
  • ৩০০ দেখা হয়েছে

করোনা মানুষকে কর্মহীন করার পাশাপাশি ধ্বস নামিয়েছে দেশের পর্যটন শিল্পে। করোনাকালে বেকার হয়ে পড়েছে এই শিল্পের সাথে সম্পৃক্ত মেহেরপুর জেলার হাজারও মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে  পর্যটন স্পটকে কেন্দ্র জীবিকা নির্বাহ করা দোকানি ও হকাররা। অনেকে পেশা ত্যাগ করে বেছে নিয়েছেন অন্য পেশা।

গত ১৮ ই মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স পর্যটন কেন্দ্র।এবারের ঈদেও মুজিবনগর স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স পর্যটন কেন্দ্র, আমঝুপি ও ভাটপাড়া নীল কুঠিসহ মুজিবনগরের পর্যটন স্পট গুলি দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।

মুজিবনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার উসমান গনি বলেন, করোনা থেকে বাঁচতে সকলকে সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে হবে। সেক্ষেত্রে, মুজিবনগরে পর্যটক আসলে এক ধরনের গ্যাদারিং সৃষ্টি হবে এবং করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই আমরা উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মোতাবেক মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ মুজিবনগর উপজেলার পর্যটন স্পটগুলি সকল দর্শনার্থীদের জন্য বন্ধ ঘোষনা করেছিলাম। তবে, এবার ঈদে পর্যটন কেন্দ্রগুলো দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার ব্যাপারে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশনা এখনো পায়নি। নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত মুজিবনগরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশের প্রথম রাজধানী ও বাংলাদেশের প্রথম সরকারের শপথ ভূমি ঐতিহাসিক মুজিবনগর স্বাধীনতা স্মৃতি কমপ্লেক্স। মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক বাংলাদেশের বিশাল মানচিত্র, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ভাস্কর্য স্বাধীনতা স্মৃতি যাদুঘর এবং সর্বপরি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে জানতে প্রতি বছরে বিশেষ দিন ছাড়াও সারাবছর মুজিবনগর উপজেলার সবচেয়ে বড় পর্যটন স্পট মুজিবনগর স্মৃতি কমপ্লেক্সসহ পাশের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের পদচারনায় মুখরিত থাকে। বিশেষ করে দুই ঈদে সবচেয়ে বেশি দর্শনার্থীদের ভিড় হয়।

মেহেরপুর জেলা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর দেখভালের দায়িত্বে থাকা লোকজন জানান, করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পর থেকে এই জেলায় অবস্থিত মুজিবনগর কমপ্লেক্স ও আমঝুপি নীলকুঠি’র মতন পর্যটন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় সরকার লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কর্ম হারিয়ে দিনের পর দিন বেকার হয়ে পড়ছে স্বল্প আয়ের মানুষেরা।

মুজিবনগরের পর্যটন কেন্দ্রের ক্ষুদ্র ব্যাবস্যায়ী সোনাপুর গ্রামের আব্দুল কুদ্দুস জানান, আমি দীর্ঘদিন ধরে মুজিবনগর আমবাগানে চা বিক্রি করে আসছি। দিন গেলে এক থেকে দেড় হাজার টাকা উপার্জন হত। সংসার চালিয়ে কিছু টাকা জমা করে রাখতেন ভবিষ্যতের কথা ভেবে। এখন জমা করাতো দুরের কথা ঠিকমত সংসার চালানোই মুশকিল তার জন্য। পেশা বদল করে তিনি এখন আমের ব্যবসা করেন। কাঁচা আম কিনে পাকানোর পর বাজারে বসে খুচরা দরে বিক্রি করেন। কুদ্দুস বলেন “আমের সিজিন শেষ। এখন কি করবো বুঝতে পারছি না আশায় ছিলাম ঈদে মুজিবনগর পর্যটন কেন্দ্র খুলবে শুনছি এবার ঈদেও পর্যটন কেন্দ্র খুলবে না বয়সও হইছে কঠিন কাজতো করতে পারবো না। দেখা যাক ভাগ্যে কি আছে” ?

হোটেল ব্যবসায়ী মহিদুল ইসলাম জানান, করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে হোটেল বন্ধ রেখেছি। খাওয়ার লোক নেই। নিজের কিছু জমি আছে সেই সাথে অন্যের কিছু জমি লিজ নিয়ে চাষাবাদ করছি।

মুজিবনগরের পর্যটন কেন্দ্রের আরেক ক্ষুদ্র কসমেট্রিক্স ব্যাবসায়ী পলাশ বলেন,করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে দোকান বন্ধ আছে। পর্যটক না থাকায় দোকানে বেচাকেনা হচ্ছে না। তাই দোকান বন্ধ রেখেছি। আমি এখন আম পাড়ার লেবার হিসেবে কাজ করছি।

মুজিবনগর আমবাগানে চট বিছিয়ে খেলনা বিক্রি করতেন মোজাম্মেল হক। এখন তিনি পাখি ভ্যান চালান। যদিও তাতেও রয়েছে কঠোর নির্দেশনা। তারপরও জীবিকার তাগিদে ভ্যান চালাতে বাধ্য হয়েছেন ৫৫ বছরের মোজাম্মেল।

কসমেট্রিক্স ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান,আমি মাঠে কাজ করতে পারি না। কসমেট্রিক্স ব্যবসায়ের উপর আমার সংসার চলতো। করোনার কারনে মুজিবনগরে পর্যটক না আসায় দীর্ঘদিন ধরে দোকানে কোন কাস্টমার নেই। তারপরও খুলে রেখেছি স্থানীয়দের আশায়।

পাইকারী খেলনা ব্যবসায়ী শরিফুল মোল্লা জানান, আমরা সাধারণত খুচরা ব্যবসায়ীদের কাছে খেলনা বিক্রি করে থাকি। করোনার কারনে মুজিবনগরে পর্যটক না আসায় খুচরা ব্যবসায়ীরা তাদের মালামাল বিক্রি করতে পারছি না। এতে করে ঘরে মালামাল বোঝায় করে রেখেছি। মালামাল গুলো বিক্রি করতে না পেরে আমরা লোকসানের মুখে পড়েছি।

মুজিবনগরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো আবার খুলে দেয়ার বিষয়ে মুজিবনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাশেম জানান, করোনার কারনে উর্ধতন কতৃিপক্ষের নির্দেশে প্রায় ৪ মাস ধরে মুজিবনগরে সকল পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করা হয়েছে। ওপর মহলের নির্দেশ মতই আবার মুজিবনগর গেট খুলে দেওয়া হবে।তবে যদি কোন দর্শনার্থী এখানে এসে যায় তাহলে তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া বিভিন্ন স্থান থেকে আমার কাছে মুজিবনগরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হবে কিনা জানার জন্য ফোন আসে। আমি তাদের জানায় উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কোন নির্দেশ এখনো পায়নি।

 

 

Last Updated on July 18, 2020 4:01 am by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102