সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লা নগরীর আনন্দধারা বিদ্যাপীঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ কুমিল্লার লালমাই বাজারে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দাউদকান্দিতে এমপির সেচ্ছাধীন তহবিলের আর্থিক অনুদান পেল অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজরুল মেমোরিয়াল একাডেমীর বর্ণাঢ্য বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান বুড়িচংয়ে মিথলমা সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দেবিদ্বারে ইটভাটার ট্রাক্টরে পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ দুই জন আটক মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন বই মেলায় কুবি শিক্ষকের প্রথম উপন্যাস ‘মহারাজাধিরাজ’ অধুনা থিয়েটারের নাট্যউৎসবের লোগো উন্মোচন অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুর্শেদ রায়হানকে অব্যাহতি ব্রাহ্মণপাড়ায় মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো পিতার চৌদ্দগ্রামে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত দেবীদ্বার উপজেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি স্থগিত তজুমদ্দিনে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা নগরীর ফুটপাতে কুসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষায় দক্ষতা অর্জনই নিজেকে এগিয়ে নেবে : এলজিআরডি মন্ত্রী কায়কোবাদের নির্দেশে কুমিল্লার বিক্ষোভ সমাবেশে মুরাদনগরের শতশত নেতাকর্মী মুরাদনগরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বাহেরচর গ্রামের জাকির গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে স্মার্ট শিক্ষার্থী গড়তে হবে -মেয়র রিফাত

কামাল যদি বেঁচে থাকতো, সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রতিসময় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২০
  • ২৩১ দেখা হয়েছে
# প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইলফটো

ফাইলফটো: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, শেখ কামালের যে বহুমুখী প্রতিভা ছিল তা বিকশিত হয়ে সব অঙ্গনে ভূমিকা রাখতে পারতো। সে সেটা রেখেও গেছে। রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তার সে ভূমিকা আছে। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে প্রতিটি আন্দোলনে সে বড় ভূমিকা রেখেছে। আজ কামাল যদি বেঁচে থাকতো, সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রথম পুত্র ও দ্বিতীয় সন্তান বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত শেখ কামালের বর্ণাঢ্য জীবনের ওপর ভার্চুয়াল আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে যোগ দিয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।   

বুধবার (৫আগষ্ট) সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে যোগ দিয়ে এ আয়োজনের শুরুতে তিনি শেখ কামালের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, আল্লাহ যেন তাকে বেহেশত নসিব করেন। কামাল আজ আমাদের মাঝে নেই। ৭৫-এর ১৫ আগস্ট বাবা, মা, ভাই, আত্মীয়-পরিজনসহ ঘাতকের নির্মম আঘাতে সে শাহাদাত বরণ করেছে। এই আগস্ট শোকের মাস। এই মাসেই তার জন্মদিন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, আগস্ট আমাদের শোকের মাস। এই মাসে ঘাতকদের নির্মম বুলেটের আঘাতে পরিবারের সবাইকে হারাতে হয়েছে। অদ্ভুত বিষয় হলো আগস্টের ৫ তারিখে শেখ কামালের জন্মদিন। আর আমার মায়ের জন্মদিন ৮ আগস্ট। শেখ কামাল আমার থেকে দুই বছরের ছোট। কিন্তু তার সবকিছুতে পরিণত বোধ ছিল, তার মেধা বহুমুখী ছিল। একদিকে যেমন ক্রীড়া সংগঠক। সাংস্কৃতিক জগতেও তার প্রতিভা রয়েছে। স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছে। ঢাকা থিয়েটার যখন হয়, নিজেও অভিনয় করতো। গান গাইতো, সেতার বাজাতো। খেলাধুলাতে তার সবচেয়ে বড় অবদান। ধানমন্ডি এলাকায় তরুণ ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার ব্যবস্থা ছিল না। সে-ই উদ্যোগ নেয় আবাহনীকে আরও শক্তিশালী করে। আজকে কামাল বেঁচে থাকলে এই সমাজকে অনেক কিছু দিতে পারতো। সব কিছুতেই অবদান রাখতে পারতো।

রাজনীতিতে শেখ কামালের অবদান প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনীতির ক্ষেত্রে তার যে সাহসী ভূমিকা। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে তার সক্রিয় ভূমিকা রয়েছে। ২৫ মার্চে রাস্তায় রাস্তায় ব্যারিকেড দিতে ব্যস্ত ছিল। মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়, দেরাদুনে ট্রেনিং নেয়। সক্রিয়ভাবে মুক্তিযুদ্ধে অংশও নেয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে তার অবদান ছিল। এছাড়া আবাহনীর প্রতিও ছিল তার দুর্নিবার আকর্ষণ। প্রধানমন্ত্রী সেইসব স্মৃতির কথা মনে করে আরও বলেছেন, ‘‘আবাহনীর প্রতি তার অন্যরকম আকর্ষণ ছিল। ১৯৭৫-এর ৩০ জুলাই জার্মানির উদ্দেশে রওনা হই আমি ও রেহানা। যাওয়ার আগে কামালকে বলি। তখন তার বিয়ে হয়েছে, নতুন বৌ। তোমার জন্য কী নিয়ে আসবো? ও ডায়েরি এগিয়ে দিয়ে বললো, ‘অ্যাডিডাস বুট নিয়ে আসবা খেলোয়াড়দের জন্য। নিজের জন্য কোনও দিন কিছু চাইতো না। লেখাপড়া খেলাধুলা নাট্যচর্চা উপস্থিত বক্তৃতা-প্রতিটি ক্ষেত্রে সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করে রাখতো। 

শৈশবের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আব্বা তো বেশিরভাগ সময় জেলে থাকতেন। শেখ কামালের জন্ম নেওয়ার পর থেকে বেশিরভাগ সময় জেলখানায় ছিলেন। আমরা তো আব্বাকে আব্বা বলে ডাকার সুযোগ পাইনি। আমরা একসঙ্গে যখন খেলতাম, আমি আব্বা বলে ডাকতাম। তখন ও আমাকে জিজ্ঞেস করতো, হাসু আপা তোমার আব্বাকে আব্বা বলে ডাকি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের জন্য দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য বাঙালি জাতির জন্য আমার বাবা সারাজীবন উৎসর্গ করে গেছেন। আমরা ভাই-বোনরা পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত হয়েছি। আমাদের মা আগলে রাখতেন। ছোটবেলা থেকে কামাল শুধু খেলাধুলা নয়, সাংসারিক কাজেও মায়ের সঙ্গে সহযোগিতা করে গেছে। আজকে কামাল আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু তার সৃষ্টি আবাহনী ক্লাব এখনও আছে। খুশি হয়েছি-স্পন্দন শিল্পী গোষ্ঠীকে নতুন রূপে দেখে।

১৫ আগস্ট পরবর্তী ঘটনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি বিদেশে ছিলাম। দেশে ফিরতে পারিনি, ফিরতে বাধা দেওয়া হয়েছে। যখন ফিরলাম, মামলা করতে পারিনি। মামলা করার আইনগত অধিকার ছিল না। আইন করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। ২১ বছর পর সরকারে এসে তারপর মামলা করে বিচার করি। কত বছর লেগে গিয়েছিল এই বিচার করতে। যখন আমি সরকার গঠন করেছি। তারপর আইন বাতিল করতে সক্ষম হয়েছি। তারপর বিচার হয়েছে।

বক্তৃতার শেষপ্রান্তে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আল্লাহর কাছে অনেক শুকরিয়া আদায় করছি। কৃতজ্ঞতা জনগণের কাছে, তারা দেশসেবা করার সুযোগ দিয়েছে। অন্যায় অবিচার তার প্রতিকার করার ও হত্যার বিচার করার সুযোগ পেয়েছি। দিনের পর দিন আমাদের কাঁদতে হয়েছে। একসঙ্গে খেলাধুলা, চলাফেরা, ঝগড়া। দুই ভাই বোন কাছাকাছি ছিলাম। ওদের ছেড়ে থাকতে হবে। তা ভাবতেই পারিনি।’


ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন–প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ এমপি ও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। সভায় সভাপতিত্ব করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি।

Last Updated on August 5, 2020 3:07 pm by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102