-সরকারি হাসপাতালে ঠাঁই নেই, প্রাইভেটেও বাড়ছে চাপ" /> কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ – প্রতিসময়
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
তীব্র গরমে অতিষ্ঠ মুরাদনগরের জনজীবন মাভাবিপ্রবিতে বেড়েছে ৩০ আসন‌ চান্দিনায় দেশ ট্রাভেলস এক্সপ্রেসের সুপারভাইজার নিহত মাদক সেবনের বকেয়া টাকার পরিশোধ হিসেবে স্ত্রীকে বন্ধক, গণধর্ষণের শিকার চান্দিনায় বাল্য বিবাহ পড়ানোর দায়ে মৌলভীকে জরিমানা করায় তুলকালাম কান্ড! শিক্ষক বাতায়নে সেরা উদ্ভাবক নির্বাচিত হলেন হোমনার নজরুল ইসলাম শিব নারায়ণ দাস আর নেই, প্রধানমন্ত্রীর শোক -শনিবার বিকেলে কুমিল্লা টাউন হল মাঠে শ্রদ্ধা জানাবে সর্বস্তরের মানুষ মুরাদনগরে প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ ও প্রদর্শনীর উদ্বোধন উদ্বোধনের দুই ঘণ্টা পরই পর্দা নামলো প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনীর! চিকিৎসকের পাশাপাশি রোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করাও আমার দায়িত্ব : স্বাস্থ্যমন্ত্রী -কুমিল্লায় ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানালেন এমপি বাহার কুমিল্লা সাংস্কৃতিক জোটের নববর্ষের অনুষ্ঠান ‘বৈশাখ অবগাহন’ পরিবেশিত হবে ৪ মে নাঙ্গলকোট উপজেলায় নতুন এসিল্যান্ড দাউদকান্দিতে সরকারি ন্যায্য মূল্যের ফার্মেসি বন্ধ বাংলাদেশের চিকিৎসা সেবা বিশ্বের অনেক উন্নত দেশের তুলনায় এগিয়ে আছে : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বুড়িচংয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে তিন বাড়িতে ডাকাতি! সাংবাদিক রমিজ খানের দাফন সম্পন্ন -কুমিল্লা প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের শ্রদ্ধা মল্লিকা বিশ্বাসের কবিতা ‘দীপ্ত বৈশাখ’ মুরাদনগরের রামচন্দ্রপুর বাজারে জমে ওঠেছে বৈশাখী মাছের মেলা পহেলা বৈশাখের রাতে চান্দিনার মধ্যবাজারে অগ্নিকান্ডে ১১ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পুড়ে ছাই কুমিল্লা নগরীতে বৈশাখি মাছের মেলায় ঐতিহ্যের ছোঁয়া 

কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ -সরকারি হাসপাতালে ঠাঁই নেই, প্রাইভেটেও বাড়ছে চাপ

এম এইচ মনির, বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট টাইম সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ৪৮০ দেখা হয়েছে

কুমিল্লা গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে করোনা সংক্রমণ। জেলায় রোগী সনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই বেড়ে চলেছে। নগরীর দুটি সরকারি হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীকে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক-নার্সরা।ফলে অতিরিক্ত রোগীদের জন্য সেন্ট্রাল অক্সিজেনের পরিবর্তে তখন তাদের অক্সিজেন সিলিন্ডার ও অক্সিজেন কনসুলেটর (বিকল্প উপায়ে অক্সিজেনের সরবরাহ) দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। পর্যাপ্ত চিকিৎসার না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত।

এমন দুর্দিনেও গণমানুষের মাঝে নেই তেমন সচেতনতা। কোরবানীর পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরিই উপেক্ষিত। ঘর মুখো মানুষের চাপ লক্ষ্য করা গেছে গণপরিবহনে। সরকার ঈদের পরপরই আগাম বিধি নিষেধাজ্ঞার ঘোষনা দিলেও কাজে আসছে না।

কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক রেজাউল করিম জানান,হাসপাতালে রোগীদের ভিড় বেড়ে চলছে। করোনার বরাদ্দকৃত আসনের চেয়ে অন্তত ৩০ জন বেশি ভর্তি রয়েছেন। রোগীর চাপ সামলানো কষ্টকর হয়ে উঠেছে।

সোমবার জেলা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ৬০৬জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এটাই এক দিনে শনাক্তের রেকর্ড।আক্রান্তের হার ৪২দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৮ জনের।জেলায় এখন পর্যন্ত ২১হাজার ৪১৬ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। করোনা আক্রান্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৬০৮ জন।

কুমিল্লায় করোনা আক্রান্ত রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় হাসপাতালের শয্যার ওপরও চাপ বাড়ছে। নগরীর দুটি সরকারি হাসপাতালের কোভিড ইউনিটে রোগীর ঠাঁই হচ্ছে না। আইসিউ ,এসডিও ,কেবিন,বেড কোনটিই খালি নেই। উভয় হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী ভর্তি রয়েছে। দিনের পর দিন অপেক্ষা করেও সিট মিলছে না। চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছে চিকিৎসক-নার্সরা। চিকিৎসা না পেয়ে রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে প্রতিনিয়ত। কুমিল্লার বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে করোনা রোগীর চাপ বাড়ছে।

কুমিল্লা মহানগরীর মর্ডাণ হাসপাতাল,সেন্ট্রাল হাসপাতাল ও মা-শিশু হাসপাতালে পৃথক করোনা ইউনিট থাকলে পর্যাপ্ত বেড নেই। রোগীর চাপে পড়ে মানবিক বিবেচনায় অনেকটা গোপনে করোনা রোগীর চিকিৎসা দিচ্ছে নগরীর কমপক্ষে ২০-২৫ টি হাসপাতালে। তবে এসব হাসপাতালে নেই করোনার পর্যাপ্ত চিকিৎসা সরাঞ্জাম।

কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের কমলাপুর গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে প্রবাসী যুবক মো. ইউনুছ (৪৫)। পরিবারের সাথে ঈদ করে কোরবানীর পরপরই সৌদি ফিরার কথা ছিল। তাই প্রতিকুলতার মাঝেও প্রবাসীদের অগ্রাধিকার কোটায় গত সপ্তাহে রাজধানী ঢাকার একটি টিকা কেন্দ্র থেকে টিকা গ্রহণ করেছিল। টিকা নিতে গিয়ে সম্মুখীন হয়েছিল ব্যাপক জনসমাগমের। পরদিন ই বাড়ি এসে জ্বর-কাশি অনুভব করেন। করোনা উপসর্গ নিয়ে পরদিন ইষ্টার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গেলে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে পরামর্শ দেন। কুমিল্লার সরকারি-বেসরকারি কোন কোভিড ইউনিটে বেড না পেয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করানো হয়। ওই হাসপাতালে ২ দিন পর রবিবার রাতে আক্সিজেন সংকট দেখা দিলে এম্বুলেন্স এ অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়ার পথে জ্যামে পড়ে রাস্তায় তার মৃত্যু হয়। প্রবাসী ইউনুছে স্ত্রীও কুমিল্লা নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ওই গ্রামের ৩ জন পল্লী চিকিৎসক ও দুইজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সাথে কথা বলে জানা যায়, কমলাপুর গ্রামের অন্তত: ২০ পরিবারে জ¦র সর্দি কাশির রোগী রয়েছে। ওইসব রোগীদের মাত্র দুই তিন জন করোনা টেষ্ট করাতে পজেটিভ এসেছে। বাকিটা টেস্ট করায়নি।

করোনার উচ্চ সংক্রমণের মধ্যেই গত ১৫ জুলাই থেকে ৯ দিনের জন্য বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়েছে। এরপরই সড়ক-মহাসড়কে সেই চিরচেনা যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নগরীর ফুটপাত, অলিগলি থেকে শপিংমল সর্বত্রই মানুষের সরব উপস্থিতি। ঈদ সামনে রেখে পশুর হাটগুলোতেও উপচে পড়া ভিড়। কোথাও সামাজিক দূরত্ব মানার বালাই নেই। স্বাস্থ্য সুরক্ষার অংশ হিসেবে ন্যূনতম মাস্কও ব্যবহার করছেন না অনেকেই। এ পরিস্থিতি সংক্রমণ আরও বাড়াবে বলে মনে করেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিমত, ঈদুল আজহা সামনে রেখে সড়ক-মহাসড়কে ভিড় বেড়েছে। গণ পরিবহনে ভিড় করে মানুষ গ্রামে ফিরছেন। পশুর হাট ও শপিংমল সর্বত্রই ভিড়। কিন্তু কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। এতে করে সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে।

কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তরুন চিকিৎসক ডা.শাহাদাত হোসেন ফেসবুক স্ট্যটাসে জানান, “ বিগত এক বছরের ও বেশী সময় করোনা রোগীদের সাথে আছি।একজন করোনা আক্রান্ত রোগী বা তার পরিবার কি পরিমাণ সীমাহীন দূর্ভোগ এর মধ্যে দিয়া যায় শুধু সে বা তার পরিবার ই জানে।আর এই ডেলটা ভ্যারিয়ান্ট যে কি পরিমাণ বিপদজনক তা অকল্পনীয়।তাই সবার কাছে অনুরোধ দয়া করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন,সুস্থ্য থাকুন।”

করোনা সংকটের শুরু থেকে মানুষের পাশে থেকে বেশ আলোচিত হয়েছেন কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার পাঁচথুবী ইউপি চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন বাহালুল। তৃণমূলের এ জনপ্রতিনিধি বলেন,্ কোরবানীর হাটে স্বাস্থ্যবিধির নাজুক অবস্থা। সামাজিক দূরত্বতো দূরের কথা মাস্কই পড়তে চাচ্ছেনা। এবারের ঈদে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করা।

জেলা সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন বলেন, রোগীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকলে হাসপাতালে শয্যা দেওয়া সম্ভব হবে না। সুতরাং আক্রান্ত যাতে আর না বাড়ে সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। অর্থাৎ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অন্যথায় পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন,জেলায় করোনা সংক্রমণের হার কমাতে ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে প্রতিদিনই ভ্রাম্যমাণ আদালতের একাধিক অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের নিয়মিত ত্রাণও বিতরণ করা হচ্ছে।

# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে প্রতিসময় (protisomoy) ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

Last Updated on July 19, 2021 9:07 pm by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102