-দেশে করোনায় মৃত্যর হারের দ্বিগুন কুমিল্লায়" />
কুমিল্লায় হু হু করে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ।ক্রমেই বাড়ছে আক্রান্ত সংখ্যা, বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যাও। আশংকাজনক হারে রোগী বৃদ্ধি পাওয়ায় গত মঙ্গলবার জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কুমিল্লা জেনারেল (সদর) হাসপাতালকে পুর্ণাঙ্গ কোভিড ডেডিকেট হাসপাতাল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সিটি এলাকার পাশাপাশি কুমিল্লার গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ছে সংক্রমণ।তবে গ্রামের মানুষের আক্রান্তের তুলনায় নমুনা পরীক্ষায় অনীহার কারণে সঠিক চিত্র উঠে আসছে না। উপসর্গ দেখা দিলে বেশির ভাগ রোগীই জ্বর সর্দি ভেবেই পল্লী চিকিৎসাই ভরসা রাখছে।
করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় কুমিল্লায় ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে।এটা করোনায় আক্রান্ত হয়ে একদিনে কুমিল্লায় সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। এর আগে একদিনে একাধিকবার ১০ জনের মৃত্যুর সংখ্যা ছিল সর্বোচ্চ। বুধবার জেলায় মোট করোনা শনাক্ত হয়েছে ৪৪৩জনের। শনাক্তদের মধ্যে রয়েছেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশন এলাকার ১৭৬জন আর বাকি ২৬৭ জন বিভিন্ন উপজেলার।
দেশে করোনায় মৃত্যর হারের দ্বিগুন কুমিল্লায়। সারা দেশে মৃত্যর হার ১ দশমিক ছয় আর কুমিল্লায় মৃত্যর হার তিন দশমিক শুণ্য পাঁচ। সীমান্তবর্তী এ জেলাটি রয়েছে রেড জোন হিসেবে। জেলায় এ পর্যন্ত মোট মৃত্য হয়েছে ৫৬২ জনের। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এদিকে আক্রান্ত কুমিল্লা সিটিতে সবচেয়ে বেশি। কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৮, ১০, ১১, ১৩ ও ১৮ এ পাঁচটি ওয়ার্ডকে লাল তালিকা (রেড জোন) চিহ্নিত করা হয়েছে। ১৩ নং ওয়ার্ডে সবোর্চ্চ দেড় শতাধিক আক্রান্ত হয়েছেন, মারা গেছেন ১ জন। উপজেলা ভিত্তিক করোনা সনাক্তের হার সদর দক্ষিন উপজেলা সবচেয়ে বেশি। আক্রান্তের হার ৬৪ শতাংশ। সবচেয়ে কম আক্রান্ত তিতাস উপজেলায়। আক্রান্তের হার ৩০ দশমিক ৯শতাংশ। তবে গ্রামাঞ্চলের মানুষ পরীক্ষায় অনীহার কারণে সঠিক চিত্র পাওয়া যাচ্ছেনা।
চান্দিনা উপজেলার মেহের গ্রামের গৃহবধু কুহিনুর আক্তার। গত সপ্তাহ আগে আত্মীয়র বাড়িতে মৃত ব্যাক্তির লাশ দেখতে জনসামগমে ভীড়েছিলেন। পরদিন থেকে জ¦র সর্দি গলা ব্যাথা দেখা দেয়। বর্তমানে স্থানীয় মহিচাইল বাজারের পল্লী চিকিৎসকের পরামর্শ মতে ওষুধ সেবন করছেন। পাশাপাশির বাড়ির বেশ কয়েকজনও একই উপসর্গ দেখা দিলে একজন নমুনা দিলে পজেটিভ এসেছে। কিন্তু বাকিরা নমুনা দিতে আগ্রহি নয়। ঘরে বসেই তারা চিকিৎসা নিচ্ছেন।
বরুড়া বাড়াইপুর গ্রামের স্কুল শিক্ষক নুরুন্নবী সিদ্দিক। আশেপাশের গ্রামে বেশ কয়েকজনের মধ্যে করোনা উপসর্গ খবর পাওয়া গেছে। বাড়াইপুর গ্রামের গুরুতর অসুস্থ আবদুল হামিদ কে শহর এনে নমুনা দেওয়ায় পজেটিভ এসেছে। আক্সিজেন জরুরী হওয়াতে ৩ দিন অপেক্ষা করে বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করিয়েছেন।
আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের এক স্বাস্থ্যকর্মী জানান, ইউনিয়নের হাতিগাড়া গ্রামে একদিনে দুইজন করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। তারা গ্রামেই চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন এলাকায় পল্লী চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে,করোনা উপসর্গ জ¦র –সর্দি ,গলা ব্যাথা আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বেশ বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদের বেশির ভাগই করোনা পরীক্ষায় অনিহা লক্ষ্য করা গেছে।
জেলা সিভিল সার্জন অফিস জানায়, কোভিশিল্ড, সিনোফার্ম ও মর্ডানার মোট ৫লক্ষ ছয় হাজার ৬৭৩ টিকা এসেছে কুমিল্লায়। অক্সিজেন প্ল্যান্ট কুমিল্লা মেডিকেল হাসপাতালে নয় হাজার ৩০০ লিটার ও সদর হাসপাতালে পাঁচ হাজার ৬৪৪ লিটার। ছোট অক্সিজেন সিলিন্ডার ৭৩৭টি, মাঝারী ১৫৩ টি, বড় ১৩০টি, কনসেনট্রেটর ১৫০টি, হাইফ্লো নেজাল কেনুলা ৫২টি, পিপিই মজুদ সাত হাজার ৮০ পিস ও কোভিড ডেডিকেট বেড রয়েছে ৫৯১টি।
কুমিল্লা সিভিল সার্জন মীর মোবারক হোসেন বলেন, ‘ কুমিল্লায় আক্রান্ত ও মৃত্যু দুটোই বাড়ছে। সবাইকে মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি। সিটি কর্পোরেশন প্রতিটি পৌরসভা, উপজেলা ইউনিয়ন, ওয়ার্ড পযায়ে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরী করতে জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসতে হবে। সংক্রমণ রোধে মাঠ পর্যায়ে তাদের ভূমিকা প্রয়োজন।’
# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে প্রতিসময় (protisomoy) ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।
Last Updated on July 14, 2021 10:10 pm by প্রতি সময়