সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০২:০৩ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লা নগরীর আনন্দধারা বিদ্যাপীঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ কুমিল্লার লালমাই বাজারে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দাউদকান্দিতে এমপির সেচ্ছাধীন তহবিলের আর্থিক অনুদান পেল অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজরুল মেমোরিয়াল একাডেমীর বর্ণাঢ্য বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান বুড়িচংয়ে মিথলমা সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দেবিদ্বারে ইটভাটার ট্রাক্টরে পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ দুই জন আটক মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন বই মেলায় কুবি শিক্ষকের প্রথম উপন্যাস ‘মহারাজাধিরাজ’ অধুনা থিয়েটারের নাট্যউৎসবের লোগো উন্মোচন অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুর্শেদ রায়হানকে অব্যাহতি ব্রাহ্মণপাড়ায় মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো পিতার চৌদ্দগ্রামে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত দেবীদ্বার উপজেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি স্থগিত তজুমদ্দিনে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা নগরীর ফুটপাতে কুসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষায় দক্ষতা অর্জনই নিজেকে এগিয়ে নেবে : এলজিআরডি মন্ত্রী কায়কোবাদের নির্দেশে কুমিল্লার বিক্ষোভ সমাবেশে মুরাদনগরের শতশত নেতাকর্মী মুরাদনগরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বাহেরচর গ্রামের জাকির গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে স্মার্ট শিক্ষার্থী গড়তে হবে -মেয়র রিফাত

নির্যাতন ও বিষ প্রয়োগের অভিযোগ : বিয়ের ২৫দিনের মধ্যে কোরপাইয়ের ফাহিমার জীবনাবসান

মো. জাকির হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, কুমিল্লা
  • আপডেট টাইম শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১২৬২ দেখা হয়েছে

সমাজের বড় মাথাগুলো একসাথে বসে দশম শ্রেণির ছাত্রী ফাহিমাকে মসজিদের হুজুর ডেকে এনে বিয়ে দিলেন। বললেন এখন কবুল বললেই হলো। পরে কাবিন করে নিবে। সমাজের মাথা বলে কথা! বলা চলে, ফাহিমাকে একরকম তার ইচ্ছের বিরুদ্ধেই বিয়ে দেয়া হয়।

এবিয়ে নিয়ে ফাহিমার বাবা-মাও ছিল নিরুপায়। কেননা বিয়ের তিন দিন আগে ফাহিমাকে অপহরণ করে ফয়সাল। তারপর ফাহিমাকে বিয়ে দিতে হবে এমন অঙ্গিকার নিয়ে তাকে তার বাড়ি পৌঁছে দিয়ে একঘন্টা পরই সমাজের মাথাগুলো নিয়ে কাবিন ছাড়াই বিয়ের আয়োজন করে ফয়সাল। বিয়ে হলেও কাবিন আর হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই বিয়ের ২৫দিনের মধ্যে ফাহিমা চলে যায় না ফেরার দেশে।

ফাহিমার পরিবারের অভিযোগ, তাদের মেয়েকে শারীরিক নির্যাতন ও পরে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।
ঘটনাটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার কোরপাই গ্রামের। স্বামী ও তার পরিবারের লোকজনের নির্যাতনে এবং মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টার দিকে মারা যায় ফাহিমা। ফাহিমার মৃত্যুর পর পরই হাসপাতালে লাশ রেখে পালায় তার স্বামীসহ ওই পরিবারের অন্য সদস্যরা। বৃহস্পতিবার ( ১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় তাকে ওই গ্রামেই পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

লাশের সুরুত হাল বিষয়ে মোবাইল ফোনে জানতে চাইলে ঢাকা শেরে বাংলা নগর থানার এসআই মোবারক আলী জানান, প্রাথমিকভাবে নিহতের মুখে বিষের আলামত পাওয়া গেছে।

ফাহিমার পরিবার ও গ্রামবাসী সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের কোরপাই গ্রামের জাহাঙ্গীরের মেয়ে ফাহিমা স্থানীয় নিমসার উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। সে ২০২১ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল। স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে একই গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে নিমসার বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ফয়সাল (২২) নানাভাবে ফাহিমাকে উত্যক্ত করতো। গত ২২ আগষ্ট সকালে ফাহিমাকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় ফয়সাল। খোঁজাখুজি করে ফাহিমাকে না পেয়ে ২৩ আগষ্ট বুড়িচং থানায় অভিযোগ করেন তার পিতা জাহাঙ্গীর। থানায় অভিযোগের খবর পেয়ে অপহরণকারী ফয়সালের পিতা ফজলু মিয়া,বড় ভাই সাদ্দামসহ গ্রামের কিছু লোক জাহাঙ্গীরের বাড়িতে এসে ফাহিমাকে ফিরিয়ে দেয়ার অঙ্গীকার করে ফয়সালের সাথে বিয়ে দেয়ার সম্মতি আদায় করে নেয় অনেকটা কৌশলে।

২৫ আগষ্ট রাত ৮টায় ফাহিমাকে তার বাবা-মায়ের কাছে পাঠিয়ে প্রায় এক ঘন্টা পর রাত ৯ টার দিকে সমাজের কয়েকজন বড় মাথার (মাতব্বর প্রকৃতির)) লোক নিয়ে মসজিদের হুজুর ডেকে কাবিন ছাড়াই মুখে মুখে বিয়ের কাজ সম্পন্ন করেন। আর সমাজের মাথাগুলো বললেন আগামী ৫ দিনের মধ্যে কাবিনসহ যাবতীয় আনুষ্ঠনিকতা সম্পন্ন করা হবে।
কিন্তু কাবিন আর হয়না। কাবিনের বদলে ফাহিমার উপর চলে শারীরিক নির্যাতন। এভাবেই চলতে থাকে স্কুল ছাত্রী ফাহিমার বৈবাহিক জীবন। তার পরিবারের লোকজনও মেয়ের উপর এমন অত্যাচার ধেখে নির্বাক। কারন সমাজের মাথাওয়ালা লোকগুলোই সব সিদ্ধান্ত দেন।

১৩ সেপ্টেম্বর সকালে জাহাঙ্গীর মিয়ার বড় মেয়ে শারমিন হাওলাত নেয়া দশ হাজার টাকা ফেরত চায় ফাহিমার স্বামী ফয়সালের কাছে। আর নিয়ে শুরু হয় ফাহিমার ওপর নির্যাতন। একপর্যায়ে তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়া হয়। এমন অভিযোগ ফাহিমার পরিবারের।

এসব অত্যাচারে ফাহিমার অবস্থা খারাপ হয়ে পড়লে তাকে দুইদিন রাখা হয় চান্দিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। এর পর ১৬ সেপ্টেম্বর তার অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে নেয়া হয় ঢাকা সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে। সেখানে রাত ১১টায় ভর্তির একঘন্টার মধ্যেই মারা যায় ফাহিমা। এরপরই লাশ ফেলে পালায় ফয়সাল ও তার ভাইসহ পরিবারের অন্যরা।

খবর পেয়ে ওই রাতেই ঢাকা রওয়ানা হয় ফাহিমার পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার ময়না তদন্ত শেষে বিকালে কোরপাই গ্রামে লাশ নিয়ে আসার পর সন্ধ্যায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

এঘটনায় নিহত ফাহিমার পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ এনে ফয়সাল ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

# দেশবিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন

Last Updated on September 18, 2020 2:31 am by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102