শনিবার, ১০ ডিসেম্বর ২০২২, ০২:২৬ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
ট্রাইবেকারে বিদায় ব্রাজিলের, সেমিফাইনালে ক্রোয়েশিয়া কুমিল্লায় বেগম রোকেয়া দিবস পালন ও জয়িতা সংবর্ধনা কুমিল্লা স্টেডিয়ামে আবাহনী-ফরটিজের খেলা ১ -১ গোলে ড্র গোলাপবাগ মাঠে গণসমাবেশের অনুমতি পেল বিএনপি মির্জা ফখরুল ও মির্জা আব্বাস কারাগারে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আ’লীগের সভাপতি লোটাস কামাল সাধারণ সম্পাদক মুজিবুল হক আওয়ামী লীগকে এতো সহজে ক্ষমতা থেকে সরানো যাবে না : কুমিল্লায় আ’লীগের সম্মেলনে শেখ সেলিম নাঙ্গলকোটে হাফেজদের পাগড়ী প্রদান ও কৃতি শিক্ষার্থীদের পুরষ্কার বিতরণ কুমিল্লায় খেলা হবে কোয়ার্টার ফাইনাল : ওবায়দুল কাদের কুমিল্লা মুক্ত দিবস উদযাপন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা যুবদল সভাপতি সহ দুইজন গ্রেফতার নয়াপল্টনে পুলিশ-বিএনপি সংঘর্ষে নিহত এক, আহত ২০ কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় ১৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার  দাউদকান্দিতে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত ডাকবাংলোর সংস্কার কাজের উদ্বোধন কুমিল্লার তিতাসে শয়নকক্ষে বৃদ্ধার গলাকাটা লাশ কুমিল্লায় জামাত শিবিরের ২০ নেতা-কর্মী আটক বাগমারা স্কুল মাঠে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন কাল কুমিল্লার তিতাসে দুইপক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে রেলক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজি অটোরিকসার চার যাত্রী নিহত শেখ মনি’র জন্মদিনে কুমিল্লায় মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা পেল শীতবস্ত্র

বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন কোভিড-১৯-এর টিকাকে : জাতিসংঘের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রতিসময় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১৮৬ দেখা হয়েছে

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভার্চুয়াল মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: সংগৃহিত #

কোভিড-১৯ টিকার সময়োপযোগী ও সমান প্রাপ্তি নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আশা করা হচ্ছে বিশ্ব শিগগিরই কোভিড-১৯-এর টিকা পাবে। এই টিকাকে বৈশ্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।সব দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৫তম অধিবেশনে শনিবার ভার্চুয়াল মাধ্যমে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন ।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ প্রমাণ করেছে, আমাদের সকলের ভাগ্য একই সূত্রে গাঁথা। কাজেই সকল দেশ যাতে এই ভ্যাকসিন সময়মতো এবং একই সঙ্গে পায়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের ওষুধশিল্পের অবকাঠামোগত সক্ষমতার বিষয়টির উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারিগরি জ্ঞান ও মেধাস্বত্ব প্রদান করা হলে এই ভ্যাকসিন বিপুল পরিমাণে উৎপাদনের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে।

কোভিড-১৯–এর কারণে জাতিসংঘের ইতিহাসে এই প্রথম নিউইয়র্কের সদর দপ্তরে সদস্যদেশগুলোর রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের অনুপস্থিতিতে ডিজিটাল পদ্ধতিতে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ১৭ মিনিটের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোহিঙ্গা সমস্যা, জলবায়ু সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

বক্তব্যের শুরুতে শেখ হাসিনা বলেন, জাতিসংঘের এই সভাকক্ষটি আমার জন্য অত্যন্ত আবেগের। ১৯৭৪ সালে এই কক্ষে দাঁড়িয়ে আমার পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সদ্যস্বাধীন দেশের সরকারপ্রধান হিসেবে মাতৃভাষা বাংলায় প্রথম ভাষণ দিয়েছিলেন। আমিও এই কক্ষে এর আগে ১৬ বার সশরীরে উপস্থিত হয়ে বিশ্বশান্তি ও সৌহার্দ্যের ডাক দিয়েছি। সরকার প্রধান হিসেবে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এটি আমার ১৭তম বক্তৃতা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অভিবাসী শ্রমিকদের দুর্দশার প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এই মহামারির কারণে অনেক শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। অনেককে নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।তিনি আরও বলেন, আমরা দেশে ফিরে আসা অভিবাসী শ্রমিকদের প্রণোদনা বাবদ ৩৬১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বরাদ্দ দিয়েছি। তবে কোভিড-পরবর্তী সময়ে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধানমন্ত্রী অভিবাসী শ্রমিকদের বিষয়টি সহমর্মিতার সঙ্গে ও ন্যায়সংগতভাবে বিবেচনা করার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও অভিবাসী গ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিও আহ্বান জানান।

দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, এই সমস্যা মিয়ানমারের সৃষ্টি এবং এর সমাধান মিয়ানমারকেই করতে হবে। জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের ১১ লাখেরও বেশি নাগরিককে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। তিন বছরের বেশি সময় অতিক্রান্ত হলেও এখন পর্যন্ত মিয়ানমার একজন রোহিঙ্গাকেও ফেরত নেয়নি। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ ব্যাপারে আরও কার্যকর ভূমিকা গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি।

দেশের আর্থিক খাতের আশু সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে তাঁর সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে বলে উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা। বিশ্বে খাদ্যাভাবের আশঙ্কা থাকায় এ নিয়ে সরকারের পদক্ষেপ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা করোনাকালে খাদ্য উৎপাদনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছি। সেই সঙ্গে পুষ্টি নিশ্চয়তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের শিল্পকারখানা সচল রাখা এবং কৃষি ও শিল্পপণ্য যথাযথভাবে বাজারজাতকরণের বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছি। যার ফলে বাংলাদেশের স্ব্যাস্থ্য ও অর্থনীতি এখনো তুলনামূলকভাবে অনেক ভালো আছে।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর বিদ্যমান সমস্যাগুলো প্রতিনিয়ত প্রকট হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, কোভিড-১৯–এর এই সংকটকালেও আমাদের বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় আম্পানের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সিভিএফ ও ভি-টোয়েন্টি গ্রুপ অব মিনিস্টার্স অব ফিন্যান্সের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশ জলবায়ু সমস্যা উত্তরণে একটি টেকসই পরিকল্পনা প্রণয়নে নেতৃত্ব প্রদান করবে। এ ছাড়া গ্লাসগো কপ-এ গঠনমূলক ও কার্যকর ফলাফল নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সর্বদা সচেষ্ট থাকবে।

বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, এ বছর আমরা “উইমেন, পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি” অ্যাজেন্ডা-এর ২০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন করছি। এই অ্যাজেন্ডার অন্যতম প্রবক্তা হিসেবে আমরা শান্তি ও নিরাপত্তায় নারীর ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করি। বাংলাদেশ ইতিমধ্যে এ বিষয়ে একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে বলেও বক্তব্যে তিনি উল্লেখ করেন।

লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণে ‘বেইজিং ঘোষণা’ এবং ‘প্ল্যাটফর্ম অব অ্যাকশন’ কার্যকরে বাংলাদেশ কার্যকর ভূমিকা রেখেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ শিশুদের উন্নয়নে বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ইউনিসেফের এক্সিকিউটিভ বোর্ডের বর্তমান সভাপতি হিসেবে আমরা শিশুর প্রতি বৈষম্য দূরীকরণে কাজ করে যাচ্ছি।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দেশের পররাষ্ট্রনীতি ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’—এর উল্লেখ করে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় শান্তিরক্ষী প্রেরণে বাংলাদেশের অবস্থান এখন শীর্ষে। সংঘাতপ্রবণ দেশগুলোয় শান্তি প্রতিষ্ঠা ও শান্তি বজায় রাখতে আমাদের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শান্তির প্রতি অবিচল থেকে আমরা সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে “জিরো টলারেন্স” নীতি গ্রহণ করেছি।পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত পৃথিবী বিনির্মাণে বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষার প্রতি আমাদের সমর্থন অবিচল।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন ও সে সময় দেশে সংঘটিত গণহত্যার প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামে বাঙালি জাতি অবর্ণনীয় দুর্দশা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার মতো জঘন্য অপরাধের শিকার হয়েছে। সেই কষ্টকর অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা নিপীড়িত ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায়সংগত দাবির প্রতি সমর্থন দিয়ে আসছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন,কোভিড-১৯ মহামারির কারণে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জসমূহ আরও প্রকট হয়েছে। এ মহামারি আমাদের উপলদ্ধি করতে বাধ্য করেছে যে, এ সংকট উত্তরণে বহুপাক্ষিকতাবাদের বিকল্প নেই। জাতিসংঘের ৭৫তম বছর পূর্তিতে জাতিসংঘ সনদে অন্তর্নিহিত বহুপাক্ষিকতাবাদের প্রতি আমাদের অগাধ আস্থা রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে বহু প্রতিকূলতার মধ্যেও বহুপাক্ষিকতাবাদের আদর্শ সমুন্নত রাখতে আমরা বদ্ধপরিকর।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন,আমরা আমাদের জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছি। দারিদ্র্য ও শোষণমুক্ত সে সোনার বাংলাদেশ হবে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত-যেখানে সবার মানবাধিকার নিশ্চিত হবে। জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকীতে জাতি ও বিশ্বের নিকট এটিই আমাদের দৃঢ় অঙ্গীকার।

#দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে protisomoy ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে এবং protisomoy news ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে অ্যাকটিভ থাকুন। 

Last Updated on September 27, 2020 5:12 am by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102