ছাত্রজীবন হলো ভবিষ্যত গঠনের জন্য সর্বোত্তম সময়। ছাত্র জীবনের মূল্য অত্যধিক। মানুষের জীবনটা যদি একটি গাছের মতো হয় তাহলে ছাত্রদের জীবনটা সেই গাছের শেকড়। যে গাছের শেকড় যত শক্ত হবে বৃক্ষ তত মজবুত হবে। একটি গাছের শেকড় যদি অনেক শক্ত হয় তাহলে কোন প্রতিকূলতাই তাকে উপড়ে ফেলতে পারবে না। ঠিক তেমনিভাবে ছাত্রজীবনের সঠিক শিক্ষা, জ্ঞান অর্জন ভবিষ্যত জীবনে সামনে এগিয়ে চলার পথে কোন বাধা, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারবে না।তাই ছাত্র জীবনে সঠিক শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেশি। ছাত্ররাই একটি দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের দিকেই তাকিয়ে থাকে দেশ ও সমাজ। তারা ভোরের শিশির, প্রভাতের আলোর মতো নবজীবনের দ্যুতি ছড়ায়। ছাত্র জীবনে অর্জন করা নৈতিকতা, শিষ্টাচার, সৌজন্যতাসহ সঠিক শিক্ষা একটি দেশকে সুখি ও সুন্দর করে তোলে।
ছাত্রদের দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
ছাত্রজীবন মানেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের জগৎ। যেখান থেকে ছাত্ররা প্রতিনিয়ত নতুন কিছু শিখবে। আর এ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে ভবিষ্যতে কর্মমুখী জীবনে প্রবেশ করবে। ছাত্রজীবনে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তার পাশাপাশি মানুষ্যত্ববোধও অর্জন করতে হবে। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে। শিক্ষকের আদেশ পালন করলে একটি ছাত্র অবশ্যই ভালো গুণের অধিকারী হতে পারবে। কেননা শিক্ষকই একটি ছাত্রকে সৎ ও মেধাবী করে তোলে।ছাত্রজীবনে কেবল পাঠ্যপুস্তকের বিদ্যায় সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না,পাঠ্যপুস্তকের বাইরেও অনেক কিছু শেখার রয়েছে যা প্রকৃত জ্ঞান অর্জনে সহায়তা করবে।
সামাজিক দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন ছাত্রদের মূল লক্ষ্য হলেও সামাজিক ক্ষেত্রে তাদের অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে। সমাজ এবং শিক্ষাঙ্গন সুন্দর রাখার দায়িত্ব ছাত্রদেরই নিতে হবে। ছাত্রসমাজের উচিত নতুন নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা। শিক্ষিত যুবকরা যদি কৃষি কাজ, মৎস্য চাষ, পশুপালন, নার্সারি ইত্যাদি ক্ষেত্রে তাদের মেধা ও শ্রমকে কাজে লাগায় তাহলে দেশের উন্নয়ন যেমন বৃদ্ধি পাবে তেমনি বেকারত্বও হ্রাস পাবে।
নিয়মানুবর্তিতাঃ
ছাত্রদের প্রথম কাজ পড়াশোনা। কখনোই তাদের একদিনের কাজ অন্যদিনের জন্য রেখে দিলে চলবে না। ব্যক্তিজীবনে, সমাজ জীবনে, রাজনৈতিক ক্ষেত্রে ছাত্রদের অবশ্যই নিয়মানুবর্তিতার সাথে সুষ্ঠুভাবে তাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হবে। ছাত্রজীবন থেকেই নিয়মানুবর্তিতায় বেড়ে উঠলে কর্মজীবনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
পারিবারিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
ছাত্ররা পরিবারের কাছ থেকে যেমন অনেক কিছু পায় তেমনি পরিবারের প্রতিও তাদের অনেক দায়িত্ব থাকে। পরিবারের সকলেই তাদের কাছ থেকে ভালো আচার ব্যবহার প্রত্যাশা করে।
রাজনৈতিক ক্ষেত্রে দায়িত্ব ও কর্তব্যঃ
ছাত্রসমাজ অনাচার, অবিচার, অত্যাচার ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সবসময়ই সোচ্চার। আদর্শগতভাবেই তারা রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে।যুগে যুগে ছাত্রসমাজ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে এবং স্বাধীনতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে যাচ্ছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে ছাত্রদের ভূমিকা ছিল অপরিসীম। তাছাড়া মাতৃভাষার জন্য তারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছে তা ইতিহাসের পাতায় বিরল।
দেশাত্মবোধঃ
ছাত্রদের দেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক ধারণা থাকায় তারা দেশকে আরও বেশি আপন করে নিতে পারে।দেশের ও দেশের মানুষের সেবায় মগ্ন থাকতে হবে ছাত্রসমাজকে। তাদের মধ্যে কোনো ক্লান্তি, কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকা উচিত নয়।
লেখক: সিনিয়র শিক্ষক , নজরুল মেমোরিয়াল একাডেমি, কুমিল্লা।
শিক্ষা বিষয়ক প্রতিবেদক, প্রতিসময় ডট কম
Last Updated on December 2, 2023 12:28 am by প্রতি সময়