সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০১:৫১ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
কুমিল্লা নগরীর আনন্দধারা বিদ্যাপীঠে ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণ কুমিল্লার লালমাই বাজারে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা দাউদকান্দিতে এমপির সেচ্ছাধীন তহবিলের আর্থিক অনুদান পেল অসহায় ও হতদরিদ্র পরিবার আলোকিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নজরুল মেমোরিয়াল একাডেমীর বর্ণাঢ্য বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান বুড়িচংয়ে মিথলমা সমাজ কল্যাণ ট্রাস্টের উদ্যোগে দুস্থদের আর্থিক সহায়তা দেবিদ্বারে ইটভাটার ট্রাক্টরে পিষ্ট হয়ে শিশুর মৃত্যু কুমিল্লায় ফেন্সিডিল ও গাঁজাসহ দুই জন আটক মুরাদনগরে বীর মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফাউন্ডেশনের কার্যালয় উদ্বোধন বই মেলায় কুবি শিক্ষকের প্রথম উপন্যাস ‘মহারাজাধিরাজ’ অধুনা থিয়েটারের নাট্যউৎসবের লোগো উন্মোচন অবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মুর্শেদ রায়হানকে অব্যাহতি ব্রাহ্মণপাড়ায় মেয়ের জন্য পাত্র দেখতে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেলো পিতার চৌদ্দগ্রামে ট্রাক চাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত দেবীদ্বার উপজেলা আ’লীগের কার্যনির্বাহী কমিটি স্থগিত তজুমদ্দিনে পাঠাভ্যাস উন্নয়ন কর্মসূচির উদ্বুদ্ধকরণ কর্মশালা নগরীর ফুটপাতে কুসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষায় দক্ষতা অর্জনই নিজেকে এগিয়ে নেবে : এলজিআরডি মন্ত্রী কায়কোবাদের নির্দেশে কুমিল্লার বিক্ষোভ সমাবেশে মুরাদনগরের শতশত নেতাকর্মী মুরাদনগরে স্কুলছাত্রীকে উত্ত্যক্ত করায় বাহেরচর গ্রামের জাকির গ্রেফতার প্রধানমন্ত্রীর ভিশন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়তে স্মার্ট শিক্ষার্থী গড়তে হবে -মেয়র রিফাত

মাদরাসার শিশু শিক্ষার্থীকে নির্যাতন : আটক শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিলেন নির্যাতিত শিশুর ‘ধর্মভীরু’ মা-বাবা  

প্রতিসময় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম বুধবার, ১০ মার্চ, ২০২১
  • ১৫৬ দেখা হয়েছে

চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পৌর এলাকার কামাল পাড়া রোড়ে কনক কমিউনিটি সেন্টার ও পশু হাসপাতালের পিছনে মারকাজুল কোরান ইসলামি একাডেমি মাদরাসার হিফজ বিভাগের ৮ বছর বয়সী শিশু শিক্ষার্থী ইয়াসিনকে বেত্রাঘাতে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর মাদরাসা শিক্ষক ইয়াহিয়াকে  মঙ্গলবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলা প্রশাসন আটক করলেও শিশুটির মা-বাবা রাত দুইটা পর্যন্ত উপজেলা অফিসে অবস্থান করে এব্যাপারে কোন অভিযোগ করবেন না বলে সেই শিক্ষককে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছেন।

অভিযুক্ত শিক্ষককে ছাড়িয়ে নেয়ার বিষয়টি নিয়েও ফেসবুকে প্রতিক্রিয়ার ঝড় উঠে।এস এম রাশেদুল ইসলাম চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘সত্যিই অবাক হলাম আমাদের সহজ-সরল ধর্মভীরু মা-বাবা দেখে! বেহেস্তের লোভে হুজুর নামের এসব জল্লাদ কশাইর হাতে সন্তানকে সঁপে দিচ্ছে!’

কুতুব উদ্দিন চৌধুরী নামে একজন লিখেছেন, ‘ফৌজদারি অপরাধ ঘটলে এর শাস্তি বিধান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব ও কর্তব্য।’

এঘটনার বিষয়ে হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘স্থানীয় একজন শিশুটিকে প্রহারের ঘটনা আমাকে জানান। ইতোমধ্যে বিষয়টা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। আমি তাৎক্ষণিক হাটহাজারী থানার একটা টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে চকলেট নিয়ে যাই। বাচ্চাটির সঙ্গে কথা বলি এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করি। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করব এমন সময় ছাত্রের বাবা-মা এসে কান্নাকাটি করেন এবং শিক্ষককে ক্ষমা করে দিয়েছেন বলে জানান।’

তিনি বলেন, ‘তারা কিছুতেই মামলা করবেন না এবং আমাদেরকেও আইনগত ব্যবস্থা না নিতে অনুরোধ করেন। তাদেরকে অনেক বুঝানো সত্ত্বেও তারা লিখিতভাবে আমাদের অনুরোধ করেন আইনি ব্যবস্থা না নিতে। রাত ২টা পর্যন্ত অভিভাবকেরা আমার কার্যালয়ে অবস্থান করেন যেনো আইনি ব্যবস্থা না নিই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি রাত ৪টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি এই ঘটনায় মামলা দায়েরের জন্য। মামলার খরচসহ আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দেয়ার পরেও লেখাপড়া না জানা মা-বাবা কোনোভাবেই অভিযোগ দায়েরে রাজি হয়নি। হাফেজি মাদরাসাগুলোতে এভাবে নির্মম নির্যাতন নিয়মিত ঘটনা। কিন্তু কেউ অভিযোগ দায়ের করেন না। এটিও সমাজের বৈকল্যতা।’

জানা গেছে, হিফজ বিভাগের শিক্ষার্থী শিশু ইয়াসিনকে সোমবার (৮ মার্চ) বিকেলে তার মা পারভিন আক্তার ও বাবা মোহাম্মদ জয়নাল মাদরাসায় গিয়ে দেখতে যান। ছেলেকে দেখে ফেরার সময় ছোট্ট শিশুটি মা-বাবার সঙ্গে বাড়ি যাওয়ার বায়না ধরে। এক পর্যায়ে সে মা-বাবার পিছু নিয়ে মাদরাসার মূল ফটকের বাইরে চলে আসে।

আর এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মাদরাসার শিক্ষক (হুজুর) ইয়াহিয়া। মা-বাবার সঙ্গে মূল ফটকের বাইরে কেন গিয়েছে শুধু এই কারণে তিনি শিশুটিকে বাইরে থেকে ধরে এনে একটি কক্ষে নিয়ে বেত দিয়ে বেধড়ক পেটাতে থাকেন। আর শিশুটি বাঁচার আকুতি জানাতে থাকে। তারপরেও ক্ষান্ত হননি নিষ্ঠুর ইয়াহিয়া। অনবরত চলে তার পিটুনি।

এ সময় শিক্ষার্থীদের কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে আপলোড করলে এটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে। ছোট ওই শিশুটির ওপর  নির্মম নির্যাতনের প্রতিবাদ এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও দাবী ওঠে ফেসবুকে। সৈয়দ শহীদুল ইসলাম গুল্লু নামে একজন ফেসবুক ইউজার লিখেছেন- ‘শিক্ষকতার আগে নিজেকে সুশিক্ষিত হতে হয়। প্রতিষ্ঠান সহ সংশ্লিষ্ট সকলকেই জবাবদিহিতার আওতায় আনা জরুরী।’ গিয়াস উদ্দিন নামে একজন লিখেছেন- ‘এই কুলাঙ্গার কে আইনের আওতায় এনে বিচার করা হোক।’

# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে প্রতিসময় (protisomoy) ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

Last Updated on March 10, 2021 1:42 pm by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102