বৃহস্পতিবার, ০২ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ০৭:৫৫ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা’র বুড়িচং উপজেলা কমিটি গঠন, জাবির সভাপতি হৃদয় সাধারণ সম্পাদক কুমিল্লার সদর দক্ষিণে গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেফতার কুমিল্লায় চুরি হওয়া ১১ মোটরসাইকেল উদ্ধার, সঙ্ঘবদ্ধ চোর চক্রের ৯ সদস্য গ্রেফতার কুমিল্লা জেলা পুলিশের নতুন ডিআইও- ওয়ান ফজলে রাব্বি কুমিল্লায় ভুয়া ডিবি পুলিশ চক্রের এক সদস্য আটক কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে অটো চালকের ঘাতক গ্রেফতার কুমিল্লার মুরাদনগরে মাটি কাটা চক্রের হাতে বিনষ্ট প্রায় ৭শ বিঘা কৃষি জমি কুমিল্লা সদর দক্ষিনে ফেনসিডিলসহ মাদক কারবারি আটক নগরীর হাউজিং এস্টেটে সম্পত্তির দ্বন্দ্বে পিতার লাশের সামনে মেয়ে ও সৎ মায়ের ধস্তাধস্তি কুমিল্লার জনপ্রিয় ক্রীড়া সংগঠক ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব সাইফুল ইসলাম জানু আর নেই কুমিল্লায় দুই শিশু হত্যা মামলায় একজনের মৃত্যুদন্ড অপরজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ভোলার নূরে আলম গাঁজাসহ কুমিল্লা নগরীর কাপ্তানবাজারে আটক বুড়িচংয়ে পারিবারিক কলহের জেরে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা  চট্টগ্রামে প্রকল্প পরিচালকের ওপর হামলার ঘটনার প্রতিবাদে এলজিইডি কুমিল্লা দফতরের মানববন্ধন দাউদকান্দিতে কাভার্ডভ্যান চাপায় বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের গাড়ী চালক নিহত দাউদকান্দিতে আওয়ামী লীগ নেতার গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় ৫ আসামি গ্রেফতার এক লাখ ২০ হাজার টাকা জরিমানা গুনলো কুমিল্লার নুরজাহান ও ছন্দু হোটেল কুমিল্লায় ‘নিরাপদ অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত মুরাদনগরের সবুজ ১১৩৬ বোতল বিদেশী মদসহ কুমিল্লা নগরীর টমছমব্রীজে আটক কুমিল্লা নগরীর ঠাকুরপাড়ায় ডাস্টবিনে নবজাতকের লাশ

সৌদি প্রবাসীর অপমৃত্যু ও সুইসাইড নোটের ভিডিও ভাইরাল : স্ত্রী-সন্তানদের দাবী গভীর ষড়যন্ত্র

সাদিক মামুন
  • আপডেট টাইম শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২০
  • ২১৪২ দেখা হয়েছে

সৌদি প্রবাসীর আত্মহত্যা ও সুইসাইড নোটে চরম অনিশ্চয়তায় একটি মেধাবী পরিবার #
স্ত্রীর সাথে মোবাইল ফোনে ঝগড়ার পর অভিমান করে আত্মহত্যা করেন সৌদি আরবে কর্মরত কুমিল্লা সদর উপজেলার মনশাসন গ্রামের আইউব আলীর পুত্র আবদুল জলিল (৫৫)। গত ২৩ জুলাই সৌদিআরবের হাইল শহরে নিজ শয়ন কক্ষের পাশে মালামাল রাখার একটি ঘরের সিলিংয়ে ঝুলে আত্মহত্যার আগে ভিডিও ধারণের মাধ্যমে সুইসাইড নোট করে যান।ওই ভিডিওতে সাংসারিক খরচসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্ত্রীর সাথে ঝগড়া ও মানাভিমানের বিষয়টিও উঠে আসে। আত্মহত্যার দেড় মাস আগে তিনি স্ত্রীর সাথে সাংসারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া করে মোবাইল ফোনে কথা বলা বন্ধ রাখেন। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়ায় নিহত প্রবাসীর স্ত্রী ও মেধাবী সন্তানরা চরম সামাজিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। ভিডিও ভাইরালের এ ঘটনা শ্বশুরাড়ির গভীর ষড়যন্ত্র বলেও নিহতের স্ত্রী-সন্তানরা দাবী করেন।

আড়াই মাসের বেশি সময় হতে চলেছে আবদুল জলিল আত্মহত্যা করেছেন। দেশে তার লাশ আনার প্রক্রিয়া চলছে। এরিমধ্যে গত ১৪ অক্টোবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম-ফেসবুকে সুইসাইড নোটের ভিডিওটি প্রকাশ করে নিহত আবদুল জলিলের ছোট ভাই সৌদিতে কর্মরত ইবাহিম খলিল। তার বিরুদ্ধে নিহত জলিলের স্ত্রী অভিযোগ-ঘটনার প্রায় দুই মাস ২০দিন পর ওই ভিডিওতে তার ছবি যুক্ত করে দিয়ে ফেসবুকে প্রচারের ঘটনার মুল কারণ ছিল টাকা দাবী পূরণ না করা ও সম্পদ লিখে না দেয়া।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেলে কুমিল্লা নগরীর বাগিচাগাঁও এলাকায় একটি ভাড়া বাড়িতে বসবাসরত নিহত জলিলের স্ত্রী আশরাফুন্নাহার পান্না গণমাধ্যমকে জানান, ১৯৯৬ সালে আবদুল জলিলের সাথে তার বিয়ে হয়। এরপর ৯৭সালে তিনি স্বামীর সাথে সৌদি আরব চলে যান। ২০০৫ সালে স্বামীর সাথে তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন। এসময় তার গর্ভে আরেক সন্তান ছিল। প্রথমে তিনি শ্বশুরাড়িতে থাকতেন। পরে কুমিল্লা শহরের বাগিচাগাঁও একটি ভাড়া বাসায় ওঠেন। প্রায় ৬মাস পর তার স্বামী আবার সৌদি চলে যান। এরমধ্যে তিনি ৫/৬ বার দেশে এসেছিলেন। সর্বশেষ ২০১৭ সালের আগষ্ট মাসে এসেছিলেন।

আশরাফুন্নাহার পান্না জানান, তার স্বামী সবদিক থেকেই ভাল ছিলেন। তবে তিনি সৌদিতে অবস্থান করা তার ভাই ও স্বজনের কানকথা শুনে তাদের সিদ্ধান্তে চলা। দেশে এলেই তিনি হঠাৎ রেগে যেতেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাংচুর করতেন, আর কথায় কথায় বলতেন আত্মহত্যা করবেন। দেশে একবার এ ভাড় বাসায় আত্মহত্যা করার মতো পরিস্থিতি তৈরিও করেছিলেন। ওইসময় আশরাফুন্নাহার পান্না ও তার সন্তানরা অনেক মিনতি করে ওই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

পান্না জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর তার ভাসুর কফিল উদ্দিন ও দেশে থাকা দেবর আলম মনশাসন গ্রামের বাড়িতে তাদেরকে ডেকে নিয়ে সম্পদ ও মাসিক টাকা দাবী করে। এনিয়ে তর্কবির্তকের একপর্যায়ে পান্না ও তার বড় ছেলেকে মারধর করে। তারা কোনরকমে ওই বাড়ি থেকে প্রাণ রক্ষা করে শহরে চলে আসে।

পান্না জানান,এরপর থেকে দেশে থাকা শ্বশুরাড়ির  লোকজন ও সৌদিতে থাকা দেবর খলিল তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত টাকা ও সম্পদ না দেয়ায় সৌদি আরব থেকে গত ১৪ অক্টোবর তার স্বামীর ভিডিও করা সুইসাইড নোট ফেসবুকে প্রচার করে। যা নিহতের স্ত্রী সন্তানদের জীবন অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেয়ার গভীর ষড়যন্ত্র বলে তিনি দাবী করেন।

মৃত্যুর আগে ভিডিও ধারণ করা সুইসাইড নোট পুঁজি করে শ্বশুরাড়ির লোকজন নোংরা খেলায় মেতে উঠেছে উল্লেখ করে নিহত জলিলের স্ত্রী বলেন- ‘আমার স্বামীর আত্মহত্যা এবং ওনার সুইসাইড নোটের ভিডিও ফেসবুকে ছেড়ে একটি মহল আমার গোটা পরিবারকে অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সংসারে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া, কথাকাকাটিসহ অনেক বড় ঘটনাও ঘটে। তাই বলে আত্মহত্যা করতে হবে ? আত্মহত্যা করে আমাকে দায়ী করে মুলত আমার সন্তানদের জীবন, আমার গোটা পরিবারকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিলেন। ওনি ২৫ বছর বিদেশ থাকেন। কষ্ট করে রোজগার করে অর্থ পাঠাতেন। কিন্তু ছোট তিনটা ছেলে মেয়েকে আমি আগলে রেখে মানুষ করার চেষ্টা করে যাচ্ছি। মেয়েটা মেডিকেলে পড়ে। একটা ছেলে ঢাকায় রেসিডেন্সিয়াল কলেজে পড়ে। আরেকটা ছেলে কুমিল্লা জিলা স্কুলে পড়ে। একজন মা কতোটা দায়িত্বশীল হলে পিতার ছায়া ছাড়া ওদেরকে লেখাপড়ায় এতোদূর নিয়ে যেতে পারে। আমি যদি খারাপ হতাম, আমার সন্তানরা আজকে মেধাবি হতে পারতো না। ওনি তো বিদেশ থেকে টাকা পাঠিয়েছেন। আর আমি সমাজের এই কঠিন সময়ে ছেলে মেয়ে মানুষ করার চেষ্টা করছি।’

পান্না অভিযোগ করেন-‘আমার স্বামীর ব্যবসায়িক সবকিছু ও তার গাড়ী বিক্রি করে টাকা আত্মসাত করেছে সৌদিতে থাকা দেবর খলিল। এসবের প্রতিবাদ করাতে আমার ওপর আরো ক্ষিপ্ত হয় সে।’

পান্না কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন-‘ভিডিওতে আমার স্বামী আত্মহত্যার জন্য আমাকে দায়ী করে গেছেন। তাতে আমার দু:খ নেই। কিন্তু দু:খ এতোটুকুই, এ সংসারে আমার কষ্টের কথা তো ভিডিওতে বলেননি। আমি যে তার অবর্তমানে তিল তিল করে সন্তানদের মায়ের স্নেহ-শাসনের পাশাপাশি পিতার আদরটুকু পর্যন্ত দিয়ে পুরণ করেছি, এটা তো বলেননি। সন্তানদের মানুষ করতে গিয়ে আমি আমার জন্য একটা দামী কাপড় কিনিনি। এটাতো ভিডিওতে তিনি বলেননি। দেশে আসলে আমাকে অযথা সন্তানের সামনে অপমান করতেন, মারধর করতেন এটাতো ভিডিওতে বলেননি। কেবল দেড় মাস আগে ঝগড়ার দোষটুকু আমার স্বামীর চোখে পড়েছে। কিন্তু বছরের পর বছর সংসারে খাটুনি দিয়ে সন্তানদের মানুষ করছি এটা ওনার চোখে পড়েনি।’

স্বামীর প্রসঙ্গ তুলে ধরে পান্না বলেন-‘এটা সত্যি তিনি সংসারের খরচে কোনদিন কার্পন্য করেননি। গত ৬/৭ মাসে করোনার কারণে ব্যবসা মন্দা যাওয়ায় সংসার খরচ কম পাঠাতেন। যেহেতু সংসারের খরচ বেশি ছিল, এটাতো একলাফে কমিয়ে আনাও সম্ভব ছিল না। ধীরে ধীরে সব কমিয়েছি। আর ঝগড়াঝাটি কোন সংসারে না হয়। এজন্য স্ত্রীর ওপর অভিমান করে আত্মহত্যা করতে হবে ? আসলে ওনার সাথে ছোট ভাই খলিল, ভাতিজা একসাথে থাকতেন। তারাই ওনাকে সবসময় আমার সম্পর্কে ভুল বুঝিয়ে মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত করে তুলেছে। ছেলেমেয়েদের পড়ালেখায়, সংসার খরচ এতো টাকা লাগে নাকি, এসব ধারণা দিয়ে আমার স্বামীর মাথা নষ্ট করে দিয়েছে শ্বশুরাড়ির লোকজন।’
সুইসাইড নোটের ভিডিও পুঁজি করে যা চলছে এসবের প্রসঙ্গে পান্না বলেন- ‘আত্মহত্যার আগে আমার স্বামীর ধারণ করা ভিডিওর সুইসাইড নোট যারা ফেসবুকে ছড়াচ্ছে তারা চায় আমার সংসারটা ধ্বংস হয়ে যাক। বিশ্ববাসীর কাছে আমাকে অপমানের জায়গায় দাঁড় করিয়ে আমার নিষ্পাপ সন্তানদের ভবিষ্যত অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে ওরা। ভিডিওর সাথে আমার ছবি যুক্ত করে দিয়ে আমাকেও আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে এমনটি করছে আমার শ্বশুরাড়ির লোকজন। ’

আইনের প্রতি তার শ্রদ্ধা রয়েছে উল্লেখ করে পান্না বলেন-‘মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমার আবেদন, আমার স্বামীর ভিডিও সুইসাইড নোটের আলোকে আমি যদি দোষী হই তাহলে আমাকে আইনের আওতায় নিয়ে সাজা দিন। কিন্তু এভাবে ভিডিওটি ভাইরাল করে, সাথে আমার ছবি যুক্ত করে, আমার নামে অপমানজনক কথা লিখে যারা আমার সন্তানদের ভবিষ্যত জীবন অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে আমি তাদের বিচার চাই।’

ঢাকা মেডিকেলে অধ্যয়নরত নিহত আবদুল জলিলের কন্যা বলেন-‘সাধারণ ঝগড়াঝাটি কেন্দ্র করে আব্বুর আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়াটা কোনভাবেই যুক্তিসঙ্গত ছিলনা। আব্বু আম্মুর  সাথে রাগ করে দেড় মাস কথা বলেনা। এবিষয়গুলো তো সৌদিতে আব্বুর সাথে যারা থাকে তারা জানে। তারা তো আম্মুর সাথে স্বাভাবিক হওয়ার জন্য আব্বুকে বুঝায়নি। বরং আমার মনে হচ্ছে ওরা আগুনে ঘি ঢেলেছে। মারা যাওয়ার আগেরদিন আমি আব্বুর সাথে একঘন্টা কথা বলেছি। এরআগে আব্বু আমাকে ফোন দিয়েছিলেন, আমি অনলাইন ক্লাশে থাকায় মেসেজ দিয়েছি।ফোন রিসিভ করিনি। এটাতেও আব্বু আমার সাথে রাগ করেছেন। আমি আব্বুকে মাথাগরম না করার জন্য বুঝিয়েছি। অথচ আব্বু আমাদেরকে অন্ধকারে ঠেলে দিলেন। আর আমার জেঠা চাচারা এই কঠিন সময়ে আমাদের পাশে না দাঁড়িয়ে আমাদের গোটা পরিবারকে নিয়ে মজা নিচ্ছেন। এটা তাদের গভীর ষড়যন্ত্র। যাতে আমরা পড়ালেখায় আর সামনে এগুতে না পারি। আমার আম্মু অনেক দায়িত্বশীল নারী। যিনি আমরা তিন ভাইবোনকে পড়ালেখার ভালো জায়গায় নিয়ে গেছেন। অথচ আমাদের আপনজনরা আম্মুকে নিয়ে আজেবাজে কথা বলেন, খুনি বলেন। এটা খুব খারাপ লাগে, যখন তাদের মুখে এসব শুনি। আব্বুর আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে যারা আমাদেরকে অপমান অপদস্ত করছেন, তাদেরকে আল্লাহ হেদায়েত দান করুক।’

# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে protisomoy ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে এবং ভিডিও খবর দেখতে  protisomoy news ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করে অ্যাকটিভ থাকুন।

Last Updated on October 17, 2020 2:19 pm by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102