খেলাফত মজলিস আমির শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল দর্শন ছিল প্রতিশোধ ও বিভাজন। এটি বাস্তবায়ন করতে গিয়ে শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। শেখ হাসিনার ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের যাঁতাকলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এদেশের ইসলাম প্রিয় মানুষগুলো, ইসলামী দলগুলো। যারা সব সময় হক কথা বলতো, সুস্থ ধরার রাজনীতির কথা বলতো তারাই সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের শিকার হয়েছে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা গোটা বাংলাদেশকে কারাগারে পরিনত করেছিল। জালিম শেখ হাসিনার নির্দেশে শাপলা চত্বরে আলেম, ওলামা ও হাফেজদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছিল। এদেশের শিক্ষা সংস্কৃতিতে হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন চাপিয়ে দিয়েছিল শেখ হাসিনার সরকার।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লার ঐতিহাসিক টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কুমিল্লা জেলা ও মহানগর এ গণসমাবেশের আয়োজন করে।
আল্লামা মামুনুল হক বলেন, এই বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের আর রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা নিজেই আওয়ামী লীগকে এমন জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে আগামী একশ বছরেও আওয়ামী লীগ এদেশের রাজনীতিতে ফিরতে পারবে না। জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার নির্দেশে যে গণহত্যা হয়েছে, তা জাতিসংঘের রিপোর্টে প্রকাশিত হয়েছে। সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে স্পষ্ট রিপোর্ট হওয়ার পর আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আর কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য নয়। শেখ হাসিনাকে এ দেশে পুনর্বাসন করার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নিবে না, কঠোরভাবে তা প্রতিহত করা হবে।
শেখ হাসিনা বাংলার হাজার বছরের শাসনামলের কলঙ্ক মন্তব্য করে খেলাফত মজলিস আমির বলেন, নব্বইর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদ দেশ ছেড়ে পালাইনি, দল ছেড়ে পালাইনি। কারাগারে ছিলেন। দলের নেতাকর্মীদের ভুলেননি। অশীতিপর বয়সেও জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে বেগম খালেদা জিয়া আওয়ামী লীগের জেল জুলুম নির্যাতন সহ্য করেছেন। জেল খেটেছেন। বিপদের মুখে দলের নেতাকর্মীদের ঠেলে দিয়ে কোথাও পালিয়ে যাননি। দলের নেতাকর্মীদের আগলে রেখেছেন এই বয়সেও। কিন্তু শেখ হাসিনা কাজটা কি করেছে? আওয়ামী লীগ যুবলীগ, ছাত্রলীগকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে নিজের নিরাপদ নিশ্চিত করে ভারতের কোলে গিয়ে ঠাঁই নিয়েছেন। তার পিতা শেখ মুজিবও ৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় জাতিকে শত্রুদের মুখে ঠেলে দিয়ে নিরাপদ হেফাজতে চলে গেছেন। আর ৭২ সালে দেশে আসার আগে ভারতের মাটিতে পা রেখে শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধীর আশীর্বাদ নিয়ে ভারতের মূলনীতিতে ৭২এর সংবিধান তৈরি করলেন।
আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের দুঃশাসন, গুম হত্যা ও দমন নিপীড়নের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে খেলাফত আমির মামুনুল হক বলেন, লাখো আলেমের দীর্ঘশ্বাস, শেখ হাসিনা নামের ওই জালিমের জুলুম থেকে বাঁচার ফরিয়াদ মহান আল্লাহ কবুল করেছেন। শেষ রক্ষা হয়নি শেখ হাসিনার। দেশ থেকে পালিয়ে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে নিজেকে রক্ষা করলেও এদেশের মানুষ কোনদিনও শেখ হাসিনাকে ক্ষমা করবে না। শেখ হাসিনা ও তার দুর্নীতিবাজ এমপি, মন্ত্রীদের এই বাংলার মাটিতেই বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
আগামীতে একটি ইনসাফপূর্ণ ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা আর ইসলাম এক সূত্রে গাঁথা। আমরা সোনার বাংলাদেশ, নতুন বাংলাদেশ, ডিজিটাল বাংলাদেশ দেখেছি, এবার আমরা ইসলামের বাংলাদেশ দেখতে চাই। এ দেশে যাতে আর কোন দুর্নীতিবাজ ক্ষমতায় আসতে না পারে, এজন্য দেশপ্রেমিক সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
গণসমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিস কুমিল্লা পূর্ব জেলার সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ওয়ালি উল্লাহ।
সমাবেশে মাওলানা জামিল আশরাফী, আবুল বাশার ও সালাউদ্দিন কিবরিয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আফজালুর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মাওলানা মামুনুর রশিদ, জসীম উদ্দীন, লিয়াকত আলী ও কুমিল্লা জেলা সেক্রেটারি মনিরুল ইসলাম কাসেমীসহ খেলাফত মজলিসের জেলা ও মহানগর নেতৃবৃন্দ।
Last Updated on February 19, 2025 7:50 pm by প্রতি সময়