সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৫৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
নাঙ্গলকোটে সরকারি জায়গায় বাড়ির সীমানার প্রাচীর নির্মাণের অভিযোগ ফেয়ার হসপিটালের পরিচালনা পর্ষদ দ্বন্ধে চিকিৎসাসেবা বিঘ্নিত সৌদি আরব সফরে ইমরান খান গাড়ির পতাকা, প্রটোকল সবকিছুই সাময়িক; কিন্তু বন্ধুত্বের বন্ধন চিরদিনের : সুইপার বন্ধুকে কাছে পেয়ে ফেসবুকে স্মৃতিকাতর প্রতিমন্ত্রী লালমাইয়ে সিএনজি ফিলিং স্টেশনের আগুনে পুড়ে গেছে প্রাইভেটকার এ দেশ অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বুড়িচংয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন ডাকাত আটক ইকবালের ইন্ধনদাতাকে খুঁজে বের করুন : কুমিল্লায় গয়েশ্বর রায় পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে সকলকে কাজ করতে হবে : সিনিয়র সচিব-আইসিটি বিভাগ ইকবাল ও দারোগাবাড়ি মাজারের সহকারি খাদেমসহ চারজন সাতদিনের পুলিশ রিমান্ডে কুমিল্লার ঘটনা ফেসবুক লাইভে প্রচারকারী ফয়েজের আদালতে স্বীকারোক্তি আল-কায়েদার শীর্ষ নেতা সিরিয়ায় মার্কিন ড্রোন হামলায় নিহত পোলিওমুক্ত বিশ্ব গঠনে রোটারি ইন্টারন্যাশনাল ইকবালকে কারা ব্যবহার করেছে তা উদঘাটনের দাবী নেটিজনদের মুরাদনগরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ : শিক্ষকের বাড়িতে হামলা লকডাউনকে বিদায় জানালো মেলবোর্নবাসী ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে হিন্দু মহাজোট আলোচিত যুবক ইকবালকে কুমিল্লায় এনে চলছে জিজ্ঞাসাবাদ মণ্ডপে কোরআন রাখা ইকবাল অবশেষে গ্রেফতার বেগম রোকেয়া পদকপ্রাপ্ত বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর জোহরা আনিস আর নেই

গাজীপুরের সাফারী পার্কে নীলগাভী দম্পতির ঘরে নতুন দুই নবজাতক

মো. দেলোয়ার হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
  • আপডেট টাইম রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৭ দেখা হয়েছে

আশার আলো জ্বালিয়ে বাংলাদেশে বিলুপ্তির তালিকায় থাকা গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের নীলগাভী দম্পতির পরিবারে আরো দুইটি নবজাতক জন্ম নিয়েছে। জন্ম নেয়া বাচ্চা দুইটি মাদি না পুরুষ তা এখনও নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছেন পার্ক কর্তৃপক্ষ।

গত ১আগস্ট জন্ম নিলেও পার্ক কর্তৃপক্ষ তা কাউকে জানায়নি। নতুন জন্ম নেয়া শাবকের নিরাপত্তা ও প্রকৃতিতে টিকে থাকার চ্যালেঞ্জ থাকায় পার্ক কর্তৃপক্ষ গত শুক্রবার বিকেলে বিষয়টি গণমাধ্যমে জানান। আর নুতন জন্ম নেয়া শাবক দুটি থেকেই পার্ক কর্তৃপক্ষ প্রায় ৮০বছর আগে বাংলাদেশের প্রকৃতি থেকে হারিয়ে যাওয়া বিলুপ্তর তালিকা থাকা নীলগাভী প্রকৃতিতে ফিরে আসার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক তবিবুর রহমান জানান, ২০২০সালের ১ফেব্রুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা গ্রামের মামুদপুর-ঠুঠাপাড়া বর্ডার এলাকার বাসিন্দারা একটি নীল গাভী ধরে জবাই করার প্রস্তুতি নেয়। পরে বিজিবি-৫৩ (মামুদপুর বিওপির) সদস্যরা ওই মাদী নীলগাভীকে উদ্ধার করে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগে হস্তান্তর করলে নীলগাইটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আনা হয়।

অপরদিকে, ২০১৯সালের ২২জানুয়ারি নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকায় অপর একটি নীলগাভী আটক করে জবাই করার প্রস্তুতি নেয়া হয়। পরে তা জানতে পেরে রাজশাহীর বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ স্থানীয় উপজেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় (জবাই করার প্রস্তুতির সময়) একটি পুরুষ নীলগাভী উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দিয়ে ২০১৯ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রাণিটিকে দিনাজপুরের রামসাগর জাতীয় উদ্যানে স্থানান্তর করা হয়। পরে সেখান থেকে পুরুষ নীলগাভীটি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে আনা হয়।

পার্কের ওয়াইল্ডলাইফ সুপারভাইজার মোঃ সারোয়ার হোসেন খান জানান, হেমন্তকাল থেকে শীতকালের শুরুর সময়ে পুরুষ নীলগাভী ও মাদী নীলগাভীর সাথে মিলিত হয়। স্বভাবসিদ্ধভাবে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে পুরুষ নীলগাগুলো একাধিক মাদী নীলগাভীর সাথে মিলিত হয়ে থাকে। গর্ভধারণ কাল গড় ২৪৩দিন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে যমজ বাচ্চা প্রসব করে, ক্ষেত্র বিশেষে ১টি থেকে ৩টি বাচ্চাও প্রসব করে থাকে। জন্মের ৪০মিনিটের ভেতর দাঁড়াতে পারে পুরুষ শাবক ৩বছর এবং মাদী ২বছরে প্রজননক্ষম হয়ে উঠলেও এদের গড় আয়ু ২১বছর।

তিনি আরও জানান, পুরুষ নীলগাভীর বর্ণ গাঢ় ধুসর, অনেকটা কালচে রঙের। অনেক সময় নীলচে আভা দেখা যায় বলে এদের নীলগাভী নামকরণ করা হয়েছে। শুধুমাত্র পুরুষ নীলগাভীর দুটি কৌনিক, মসৃণ ও সামনের দিকে কিঞ্চিত বাকানো দুটি শিং আছে। পুরুষের উচ্চতা ৫২-৫৮ইঞ্চি, শিং এর দৈর্ঘ্য ৮-১২ইঞ্চি। মাদী নীলগাভী এবং শাবকের রং লালচে বাদামী কিন্তু খুরের উপরের লোম সাদা। ঠোঁট, থুতনি, কানের ভেতরের দিক ও লেজের নীচের তলদেশ সাদা। নীলগাভী ছোট ছোট পাহাড় আর ঝোপ-জঙ্গলপূর্ণ মাঠে চড়ে বেড়াতে ভালবাসে। ঘন বন এড়িয়ে চলে। সচরাচর ৪ থেকে ১০ সদস্যের দল নিয়েই নীলগাভী ঘুরে বেড়ায়। দলে কখনও ২০ বা তার বেশি সদস্যও থাকতে পারে।

নীলগাভী সম্পর্কে তিনি আরও জানান, নীলগাভী গাছে ঢাকা উঁচু-নিচু সমতলে বা তৃণভূমিতে যেমন স্বাচ্ছন্দে বিচরণ করতে পারে, তেমনি আবার শস্যক্ষেত্রে নেমে ব্যাপক ক্ষতি করতে পটু। সকাল আর বিকেলে খাওয়ার পাট চুকিয়ে দিনের বাকি সময়টা গাছের ছায়ায় বসে কাটায়। মহুয়া গাছের রসালো ফুল এদের দারুণ পছন্দ। পানি ছাড়া এরা দীর্ঘসময় কাটিয়ে দেয়, এমনকি গরমের দিনেও এরা নিয়মিত পানি খায় না। আত্মরক্ষার প্রধান উপায় দৌড়ে পালানো। দ্রুতগামী ও শক্তিশালী ঘোড়ার পিঠে না চড়ে নীলগাভী ধরা প্রায় অসম্ভব।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদুল কবির বলেন, এরা যখন এডাল্ট হয় তখন এদের দেহে কিছুটা বর্ণ দেখা যায়। এজন্য তাদেরকে নীল গাভী বলা হয়। গত ৮০বছর আগে দেশের উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এক সময় অবাধ বিচরণ ছিল নীলগাভীর। ১৯৪০সালের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশে নীল গাভী দেখা গিয়েছিল। বনাঞ্চল উজাড় হওয়া, বসবাসের পরিবেশ হারানো, খাদ্য সংকট ও শিকারীর অবাধ শিকারের কারণে পরিবেশে প্রাণীটির সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমতে কমতে এক সময় নীলগাভীর নাম উঠে বিলুপ্তর তালিকায়। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, পাকিস্তান নেপাল এবং যুক্তরাষ্ট্রে নীলগাভী রয়েছে। পার্কে থাকা নীলগাভী দুটি জুঁটি বাধার ১১মাস ১১দিন পর গত পহেলা আগষ্ট দুটি বাচ্চা জন্ম দেয়। বর্তমানে সবাই সুস্থ আছে। বাংলাদেশ নীলগাভী শূণ্য হলেও ভারতে লাখের উপর নীলগাভী রয়েছে।

আমরা আশা করছি বিলুপ্তর তালিকায় থাকা নীলগাভী গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারী পার্কে বংশবৃদ্ধির মাধ্যমে আবারো প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে আসবে।

# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে (protisomoy) ফেসবুক পেইজে লাইক দিয়ে অ্যাকটিভ থাকুন।

Last Updated on September 19, 2021 10:13 pm by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!