সোমবার, ২৭ জুন ২০২২, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ
সদর দক্ষিণে ১০০কেজি গাঁজাসহ দুই জন আটক  দেবীদ্বারে আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত কুমিল্লায় মাদক বিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস পালিত ব্যাংককে গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড পেলেন এমপি বাহারকন্যা সূচনা কুমিল্লায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বিশাল আনন্দ র‍্যালি মুরাদনগরে ছয় বছরের শিশু ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে একজন গ্রেফতার বর্ষা এলেই মুরাদনগরে বেড়ে যায় নৌকার চাহিদা বেঈমান মুনাফেকদের চেহারা এই সিটি নির্বাচনে ভেসে উঠেছে : এমপি বাহার  সদরের কালির বাজারে দুই সেনা কর্মকর্তা ও কলেক শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি কুমিল্লায় আওয়ামী লীগের ৭৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কুমিল্লায় দুই ধর্ষকের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেবিদ্বারে বড় ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে ছোট ভাইয়ের মৃত্যু কুমিল্লায় ৬০ কেজি গাঁজা সহ দুই জন আটক কর্মক্ষেত্রে নিজেদের কর্তব্য ও ভূমিকা সম্পর্কে আদালতের সহযোগী কর্মচারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে : সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ কুমিল্লা স্টেডিয়ামে মোহামেডানকে হারাল আবাহনী জাতীয় পদক প্রাপ্ত মতিন সৈকতকে দাউদকান্দি উপজেলা প্রশাসনের সংবর্ধনা চাকা ফেটে উল্টে যাওয়া বাসের ৪০ যাত্রীর সাত জন আহত পূজামন্ডপের ঘটনায় কুমিল্লা সিটি কাউন্সিলরসহ আটজন কারাগারে শুদ্ধাচার পুরস্কার পেলেন কুমিল্লা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী নারায়নগঞ্জের পর কুমিল্লার বরুড়ায় জন্ম নেওয়া যমজ শিশুর নাম রাখা হলো পদ্মা-সেতু

রক্তাক্ত ২৫ ফেব্রুয়ারি : পিলখানা ট্র্যাজেডির একযুগ

প্রতিসময় ডেস্ক
  • আপডেট টাইম বৃহস্পতিবার, ২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ১২৮ দেখা হয়েছে

আজ ২৫ ফেব্রুয়ারি। ইতিহাসের আরেকটি কালো দিন। ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী বিজিবি’র (সাবেক বিডিআর) সদর দফতর পিলখানায় বিপথগামী বিদ্রোহী বিডিআর জওয়ানরা ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জনকে নির্মমভাবে হত্যা করে। নারকীয় এ হত্যাকান্ডের আজ এক যুগ পূর্ণ হল।

আজ (বৃহস্পতিবার) সেই ঘটনার বার্ষিকী পালন করবে বিজিবি। দিনের কর্মসূচিতে রয়েছে পিলখানাসহ বিজিবির সব রিজিয়ন, সেক্টর, প্রতিষ্ঠান ও ইউনিটের ব্যবস্থাপনায় বাদ ফজর খতমে কোরআন, বিজিবির সব মসজিদে এবং বিওপি পর্যায়ে শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় সকাল ৯টায় বনানীর সামরিক কবরস্থানে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ৩ বাহিনীর প্রধান (সম্মিলিতভাবে), স্বরাষ্ট্র সচিব এবং বিজিবি মহাপরিচালক (একসঙ্গে) শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

এছাড়া দিবসটি পালন উপলক্ষে বিজিবির সকল স্থাপনায় বিজিবি পতাকা অর্ধনমিত থাকবে এবং বিজিবির সকল সদস্য কালো ব্যাজ পরিধান করবেন। শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাদ জুমা পিলখানার বিজিবি কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা সেক্টর মসজিদ এবং বর্ডার গার্ড হাসপাতাল মসজিদে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে।

ঘটনাক্রম : হাইকোর্টে জমা হওয়া মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ছিল তৎকালীন বিডিআরের বার্ষিক দরবারের দিন। অনুষ্ঠান শুরু হয় সকাল ৯টায় সদর দফতরের দরবার হলে।

সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদ, উপমহাপরিচালক (ডিডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এমএ বারী, বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তাসহ বিডিআরের নানা পদের সদস্যরা। সরকারি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুসারে, ওই দিন দরবারে উপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৫৬০ জন।

দরবার শুরুর পর মহাপরিচালকের বক্তব্য চলাকালে সকাল ৯টা ২৬ মিনিটে মঞ্চের বাঁ দিকের পেছন থেকে দু’জন বিদ্রোহী জওয়ান অতর্কিতে মঞ্চে প্রবেশ করেন, একজন ছিলেন সশস্ত্র। শুরু হয় বিদ্রোহ। দরবার হলের বাইরে থেকে গুলির আওয়াজ ভেসে আসে।

কিছুক্ষণের মধ্যে লাল-সবুজ রঙের কাপড় দিয়ে নাক-মুখ বাঁধা বিদ্রোহী জওয়ানরা দরবার হল ঘিরে গুলি শুরু করেন। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্রোহীরা কর্মকর্তাদের দরবার হল থেকে সারিবদ্ধভাবে বের করে আনেন। ডিজির নেতৃত্বে কর্মকর্তারা দরবার হলের বাইরে পা রাখা মাত্র মুখে কাপড় ও মাথায় হলুদ রঙের হেলমেট পরা চারজন ডিজিকে লক্ষ্য করে ব্রাশফায়ার করেন। ডিজির পর হত্যা করা হয় আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে।

এরপর পিলখানার ভেতরে ধ্বংসযজ্ঞ চলতে থাকে। দুপুর সোয়া ১২টার দিকে বিমানবাহিনীর একটি হেলিকপ্টারে করে বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট ছাড়া হলে ওই হেলিকপ্টার লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে বিদ্রোহীরা।

এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে বিদ্রোহীরা এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। সন্ধ্যায় পিলখানার বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের লাশ মাটিতে পুঁতে ও সরিয়ে ফেলা হয়।

২৬ ফেব্রুয়ারি বেলা আড়াইটায় টেলিভিশন ও বেতারে প্রচারিত জাতির উদ্দেশে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, বিদ্রোহীদের অস্ত্র সমর্পণ করে ব্যারাকে ফিরে যেতে হবে। এরপর বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন। সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্রোহীরা অস্ত্র সমর্পণ শুরু করেন।

উল্লেখ্য, এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের জন্য একটি এবং বিস্ফোরক আইনে একটিসহ দুটি মামলা দায়ের হয়। হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত ১৫২ জন বিডিআর জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড, ১৬২ জনকে যাবজ্জীবন এবং ২৫৬ জনকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করে। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ওই মামলা থেকে ২৭৮ জন খালাস পান।

এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। ২০১৭ সালে হাইকোর্টের বৃহত্তর বেঞ্চ ১৫২ জনের মধ্যে ১৩৯ জওয়ানকে মৃত্যুদণ্ড দেয়। যাবজ্জীবন দেওয়া হয় ১৮৫ জনকে। বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় আরো ২০০ জনকে। খালাস পান ৪৫ জন।

পিলখানা হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে বিস্ফোরক আইনের মামলাটি। এ মামলায় আসামি ৮৩৪ জন।

নারকীয় এই হত্যাকাণ্ডের পর ঢেলে সাজানো হয় বিজিবিকে। ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকে বিডিআর- এর নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিকভাবে বিজিবি করা হয়। বদলানো হয় বাহিনীর পোশাক, ব্যাজ এবং পতাকা।

এছাড়া ২০১০ সালের ৮ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিল ২০১০ পাস হয়। নতুন বর্ডার গার্ড আইনে বাংলাদেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর নাম পরিবর্তনসহ বিদ্রোহের কঠোরতর শাস্তির বিধান রাখাসহ বিভিন্ন পরিবর্তন আনা হয়।

# দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ খবর জানতে প্রতিসময় ডট কম ( protisomoy.com) এ চোখ রাখুন এবং প্রতিসময় protisomoy ফেসবুক পেইজে লাইক দিন। এছাড়াও protisomoy ইউটিউব চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করুন এবং বেলবাটন ক্লিক করে নতুন নতুন সংবাদ ও বিনোদন ভিডিও পেতে আমাদের সাথে থাকুন। ধন্যবাদ

Last Updated on February 25, 2021 10:24 am by প্রতি সময়

শেয়ার করুন
এই ধরনের আরও খবর...

বিস্তারিত জানতে ছবিতে ক্লিক করুন।

themesba-lates1749691102
error: Content is protected !!