
সঠিক কাগজপত্র প্রদর্শন করতে না পারায় কুমিল্লা দেবিদ্বারে দুইটি ইটভাটার চুলার চিমনি ও কাঁচা ইট ধ্বংস করেছে ভ্রাম্যমান আদালতের টিম। এ সময় দূই ইটভাটার প্রতিটিকে পাঁচ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বুধবার (১৩ মে) সকালে কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের দেবিদ্বার পৌর এলাকার পানুয়ারপুল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এমবিসি ব্রিকস ফিল্ড ও দুপুরে দক্ষিণ ভিংলাবাড়ি এলাকায় একতা ব্রিকস ফিল্ডে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরিবেশ অধিদপ্তর ঢাকা প্রধান কার্যালয়ের কিশোর কুমার দাসের নেতৃত্বে ওই অভিযান পরিচালিত হয়।
এ সময় দেবিদ্বার থানার এসআই আব্দুল মতিনের নেতৃত্বে পুলিশের টিম, মুরাদনগর ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউজ’র মো. আমজাদ হোসেনের নেতৃত্বে ফায়ার সার্ভিস টিম, কুমিল্লা র্যাব-১ এর ডিএডি মো. মনসুর আহমেদের নেতৃত্বে র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে অভিযানের সময় এমবিসি ব্রিক্সফিল্ডের মালিক সবুর ভূঁইয়া বলেন, ‘আমি পরিবেশ ছারপত্রের জন্য হাই কোর্টে মামলা করেছি, আমার মামলা চলমান। প্রায় ৪৫ বছর ধরে এখানেই ইটভাটার ব্যবসা করে আসছি। আজ রাজনৈতিক প্রভাবে আমাকে পথে বসিয়েছেন, এতে প্রায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতির মুখে পড়েছি।’
একতা ব্রিকসের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘আমরা ব্রিকস ফিল্ডটি সম্প্রতি ক্রয় করেছি, কাগজপত্রের জন্য আবেদনও করেছি। এরই মধ্যে এটি ভেঙ্গে ফেলায় ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হলাম।’

এব্যপারে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিশোর কুমার দাস জানান, আমরা কোন রাজনৈতিক প্রভাবে বা ব্যক্তি বিবেচনায় অভিযান পরিচালনা করছিনা। ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন (নিয়ন্ত্রণ) আইনের ২০১৩ সালের ১৫এর (১) ধারায় ২ টি ইটভাটার চুলার চিমনি এবং কাঁচা ইটগুলো ধ্বস করে দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৫ লাখ টাকা করে ২টি ইটভাটার মালিককে ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও দেবিদ্বার উপজেলা সহকারী কমিশনার মো. ফয়সল উদ্দিন বলেন, দেবিদ্বারের ২৪ টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টি ইটভাটার কোন বৈধতা নেই, এমনকি পরিবেশ ছাড়পত্রও নেই। আজকের ২টি ইটভাটাসহ মোট ৭ টি ইটভাটা ধ্বংস করা হয়েছে। বাকী ৯টি অবৈধ ইটভাটা পর্যায়ক্রমে ধ্বংস করা হবে।