
কুমিল্লার সিসিএন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের ১২তম ব্যাচের ৬ষ্ঠ সেমিস্টারের শিক্ষার্থী জান্নাতুন নাঈম ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর বাবার দায়ের করা আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলায় স্বামী মেহেদী হাসান হৃদয়কে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
রোববার আদালতে হাজির হলে জামিন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। কুমিল্লার ১নং আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মুমিনুল হক এ আদেশ দেন। এ সময় মামলার অপর চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী তাফসীরুল আলম জানান, গত বুধবার রাতে ফারিয়ার বাবা মো. হানিফ বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এতে ফারিয়ার স্বামী হৃদয়, তার বাবা আবদুর রহিম, মা আফরোজা বেগম এবং বোন রীমা আক্তার ও তার স্বামী জাকারিয়াসহ ৫ জনকে আসামি করেন। এ মামলায় আসামিরা আজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন আবেদন করেন। তবে আদালত নিহত ফারিয়ার স্বামী হৃদয়কে কারাগারে পাঠান এবং অপর চারজনের জামিন মঞ্জুর করেন।
মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, কুমিল্লার সিসিএন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফারিয়া ও হৃদয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে উভয় পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার বাসিন্দা আবদুর রহিমের ছেলে হৃদয়ের সঙ্গে ১৫ লাখ টাকার দেনমোহরে ফারিয়ার বিয়ে সম্পন্ন হয়। এর পর থেকে তার স্বামী ও পরিবারের লোকজন ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিল। এতে ফারিয়ার পরিবার টাকা দিতে না পারায় পারিবারিক কলহ দেখা দেয়। এ নিয়ে একাধিকবার ফারিয়াকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়।
ফারিয়ার স্কুল শিক্ষক বাবা সাংবাদিকদের জানান, তাঁর মেয়ে আত্মহত্যা করতে পারে না। তাকে আসামিরা হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজিয়ে ৯৯৯-এ কল করে।
কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি তৌহিদুল আনোয়ার বলেন, ‘ফারিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় প্রধান আসামি হৃদয় জামিন চাইতে আদালতে হাজির হন। আদালত তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন। তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আদালতে আবেদন জানানো হবে।’
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে কুমিল্লা নগরীর দেশওয়ালীপট্টি এলাকার ‘কাশেম গার্ডেন’ নামে একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে পুলিশ ফারিয়ার লাশ উদ্ধার করে। তার গ্রামের বাড়ি কুমিল্লা জেলার নাঙ্গলকোটের দৌলখাড় ইউনিয়নের কান্দাল গ্রামে।