
কুমিল্লার চান্দিনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক নারী উদ্যোক্তার ভুয়া অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি এবং ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ।
অভিযোগ রয়েছে, টাকা ও কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই নারীর বিউটি পার্লারে ঢুকে তাকে শ্লীলতাহানি এবং মোবাইলে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা করা হয়। এ ঘটনায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ও নারী-শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়েরের পর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নি.) শিশির ঘোষ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে শুক্রবার (৮ মে) ভোরে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত দুই আসামি রুবেল ও জামালকে গ্রেপ্তার করেছেন। অপর আসামি হানিফ পলাতক রয়েছে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মহিচাইল ইউনিয়নের মহিচাইল বাজারের নিউ হাজী জব্বার মার্কেটের নিচতলায় ‘আনিশা বিউটি পার্লার’ পরিচালনা করেন ইসরাত জাহান পপি (২৯)। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি তাকে বিভিন্নভাবে উত্ত্যক্ত ও অনৈতিক প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। প্রস্তাবে সাড়া না দেওয়ায় অভিযুক্তরা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও তৈরি করে। পরে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা দাবি করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়, গত ৭ মে দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে অভিযুক্ত মো. রুবেল (২৮), মো. জামাল (৪০) ও হানিফ (২৩) বিউটি পার্লারে প্রবেশ করে পুনরায় আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ভয়ভীতি ও কু-প্রস্তাব দেয়। একপর্যায়ে তারা টাকা দাবি করে এবং ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এতে বাধা দিলে তাকে জোরপূর্বক শ্লীলতাহানি করা হয়। একই সঙ্গে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণেরও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে চান্দিনা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
চান্দিনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে হেনস্তা, ভয়ভীতি বা চাঁদাবাজির চেষ্টা গুরুতর অপরাধ। জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।