
কুমিল্লা জেলা জুড়ে মাদক ব্যবসায়ী, কিশোর গ্যাং এবং ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য রুখতে একযোগে ব্যাপক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত পরিচালিত এই বিশেষ অভিযানে জেলা পুলিশের সকল ইউনিট ও ডিবি পুলিশ একযোগে ১৮টি থানায় অভিযান চালিয়ে ৩৫১ জনকে আটক করেছ। পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানে অপরাধীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) অভিযানের সার্বিক পরিস্থিতি ও তথ্য নিশ্চিত করে কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) এবং মিডিয়া বিভাগের মুখপাত্র মো. লুৎফর রহমান জানান, আমরা লক্ষ্য করছি, বর্তমান সময়ে সমাজের বিভিন্ন স্তরের পরিবারের সন্তানরা কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। এদের অপরাধের পথ থেকে দূরে রাখতে এবং জেলায় মাদক ও ছিনতাই নিয়ন্ত্রণে পুলিশের এই ঝটিকা অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযানে আটককৃতদের মধ্যে যাদের অপরাধে সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। আর যারা ভুলবশত বা সঙ্গদোষে প্রাথমিক স্তরে জড়িয়েছে, তাদের সংশোধনের সুযোগ দিতে অভিভাবকদের কঠোর মুচলেকা ও জিম্মায় দেওয়া হচ্ছে। কিশোর অপরাধ ও বখাটেপনা এবং মাদক, ছিনতাই নির্মূলে আমাদের এই প্রতিরোধমূলক অভিযান চলমান থাকবে।
এদিকে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা জেলার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের সরাসরি নির্দেশনায় এই বিশেষ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালিত হয়। কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন মোড়, অলিগলি এবং জেলার প্রত্যেকটি থানা এলাকার চিহ্নিত স্পটের মধ্যে যেখানে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের উৎপাত বেশি, সেগুলোকে টার্গেট করে মাঠে নামে পুলিশ। অভিযানে পুলিশের সকল ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থেকে নেতৃত্ব দেন।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত একযোগে চালানো সাঁড়াশি অভিযানে আটককৃত ৩৫১ জনের অপরাধের সম্পৃক্ততা নিবিড়ভাবে যাচাই-বাছাই করা হয়। আটকদের মধ্যে চরম অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলায় ১৩২ জনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। অপরদিকে অপরাধের প্রাথমিক স্তরে থাকা এবং বয়সের বিষয় বিবেচনা করে ২১৯ জনকে পরিবারের কঠোর নজরদারিতে রাখার শর্তে মুচলেকায় অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়।
কিশোর গ্যাং কালচার ও অপরাধ দমনে এই বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, কুমিল্লা জেলাকে সম্পূর্ণ অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ করতে আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে। উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে কোনোভাবেই মাদক, ছিনতাই বা গ্যাং কালচারের মতো মরণফাঁদে পা দিয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ ও সমাজকে ধ্বংস করতে না পারে, সেজন্য আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। তবে এর পাশাপাশি আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি যেন আমাদের এই অভিযানের কারণে কোনো সাধারণ কিংবা নিরপরাধ নাগরিক সামান্যতম হয়রানির শিকার না হন। প্রতিটি অভিযান কঠোরভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া জেলা পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানে গতকাল ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত সর্বমোট ৫ হাজার ২৪৬ জনকে আটক করা হয়েছে। বিপুল সংখ্যক এই আটকের পর পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে আইনি প্রক্রিয়া ও সংশোধনের সুযোগ তৈরি করেছে। মোট আটকদের মধ্যে ৩ হাজার ১৫১ জনকে মুচলেকায় তাদের অভিভাবকের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা সুপথে ফিরে আসতে পারে। অন্যদিকে অপরাধ চক্রের মূল হোতা এবং দাগি ২ হাজার ৯৫ জনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুসহ কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এই ধরনের আরও খবর...