
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশীয় অস্ত্র হাতে একদল তরুণের স্লোগান দেওয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় কুমিল্লায় ‘এসবিএস’ (SBS) নামে পরিচিত একটি গ্রুপের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গতকাল রবিবার কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রকিবুল ইসলাম গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, কিশোর গ্যাং হিসেবে পরিচিত ওই গ্রুপের সদস্যদের শনাক্ত করতে ভিডিওটি নজরে আসার পর অভিযান শুরু করে সদর দক্ষিণ মডেল থানা পুলিশ।
এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার উনাইসার এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের রোববার (১ নভেম্বর) আদালতে সোপর্দ করা হয়।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে প্রায় ২২ জন তরুণকে দেশীয় অস্ত্র হাতে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়। ভিডিওতে তারা নিজেদের ‘এসবিএস’ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচয় দেয়। নিজেদের তৈরি গ্রুপের নামে বিভিন্ন ভিডিও প্রকাশ করে এলাকায় ভীতি সৃষ্টির অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
ভিডিওটি পুলিশের নজরে আসার পর জড়িতদের শনাক্তে একাধিক টিম কাজ শুরু করে। তথ্য-প্রযুক্তি ও বিভিন্ন সূত্রের সহায়তায় গ্রুপটির কয়েকজন সদস্যের পরিচয় শনাক্তের পর উনাইসার এলাকায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন, হবিগঞ্জ সদর উপজেলার গোবিন্দপুর গ্রামের লোকমান হোসেনের ছেলে ইয়াছিন আহমেদ আকাশ (১৭), কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার এগারো গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. শাওন (১৯), নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার মাছিমপুর গ্রামের কালা মিয়ার ছেলে মো. হাবিব (১৭) এবং কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ফারবাইন মসজিদবাড়ি এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. হাবিব (১৭)। তারা সবাই সদর দক্ষিণের উনাইসার এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রকিবুল ইসলাম বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমাদের নজরে আসে। এরপর একাধিক টিম কাজ শুরু করে। জড়িতদের শনাক্ত করে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, তারা নিজেরাই একটি গ্রুপ তৈরি করে এর নাম দিয়েছে এসবিএস।
ওসি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অস্ত্র প্রদর্শন ও দলীয় পরিচয়ে স্লোগান দেওয়ার এমন ঘটনা তরুণদের মধ্যে অপরাধপ্রবণতা এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। গ্রুপটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে পুলিশের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।