
কুমিল্লার পল্লীতে গড়ে ওঠা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্যে আলোকিত হয়েছে পুরো দেবিদ্বার উপজেলা। এবারের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার ১৫টি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। একই সঙ্গে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে ১৮তম স্থান অর্জন করে সাফল্যের নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এবছর অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির ২৬৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৮ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৫ দশমিক ০৭ শতাংশ। বোর্ডের সামগ্রিক ফলাফলে বিপর্যয়ের মধ্যেও এমন সাফল্যে উচ্ছ্বসিত কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও পরিচালনা কমিটির সদস্যরা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ শুরু থেকেই ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে উপজেলা ও জেলায় সুনাম অর্জন করে আসছে। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চায়ও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় কলেজটির উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১৪৪ জন, মানবিক বিভাগ থেকে ৬৭ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ১৭ জন রয়েছে। তিন বিভাগ মিলিয়ে মোট ২২৮ জন শিক্ষার্থী কৃতকার্য হয়েছে।
দেবিদ্বারের ১৫টি কলেজের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৫ দশমিক ০৭ শতাংশ পাসের হার নিয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। পাশাপাশি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে ১৮তম স্থান অর্জন প্রতিষ্ঠানটির সাফল্যকে আরও গৌরবময় করেছে।
এ বিষয়ে দেবিদ্বার উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বলেন, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় দেবিদ্বার উপজেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জন করেছে দি রয়েল ইন্টারন্যাশনাল কলেজ। উপজেলায় প্রথম হওয়ার পাশাপাশি কুমিল্লা বোর্ডে ১৮তম স্থান অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে উপজেলার অনেক কলেজের ফলাফল তুলনামূলক খারাপ হয়েছে। কী কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কীভাবে আরও ভালো করা যায়, তা নিয়ে আমরা কাজ করছি।
কলেজটির ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সোহেল মিঞা বলেন, আমরা আরও ভালো ফলাফল প্রত্যাশা করেছিলাম। তবে শিক্ষার্থীদের এই সাফল্যের পেছনে শিক্ষার্থী, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও কলেজ পরিচালনা কমিটির সম্মিলিত সহযোগিতা রয়েছে। যে প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, সেই প্রতিষ্ঠানের ফলাফল অবশ্যই ভালো হয় বলে আমি মনে করি।
তিনি আরও বলেন, সাফল্যের পেছনে সবার আন্তরিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা রয়েছে।
এ জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে আগামীতে আরও ভালো ফলাফল অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
গ্রামীণ জনপদে প্রতিষ্ঠিত একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমন সাফল্য দেবিদ্বারের শিক্ষাঙ্গনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। ধারাবাহিক সাফল্যের এ ধারা ধরে রেখে আগামীতে আরও এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা কলেজ সংশ্লিষ্টদের।